হামজাকে ছাড়াই সাফ শুরু করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে

হামজাকে ছাড়াই সাফ শুরু করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে

ফন্ট সাইজ:

সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুতেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ। আগামী ৪ঠা নভেম্বর ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে পরদিন ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে স্বাগতিকরা। কিন্তু ফিফা উইন্ডো শুরু হবে ৯ই নভেম্বর থেকে। ফলে ভুটান ম্যাচে হামজা চৌধুরীসহ বেশির ভাগ প্রবাসী ফুটবলারকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ছাড়াই সাফ অভিযান শুরু করতে হলেও বিষয়টিকে বড় করে দেখতে চান না জাতীয় দলের কোচ টমাস ডুলি। তার সাফ কথা, হামজাকে ছাড়া ভুটানকে হারাতে না পারলে বাংলাদেশের ফুটবল খেলা বন্ধ করে দেয়া উচিত!

ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলা হামজার ম্যাচ রয়েছে ৭ই নভেম্বর পর্যন্ত। অথচ সাফে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ৫ই নভেম্বর। শুধু হামজা নন, ফিফা উইন্ডোর আগে অন্য প্রবাসী ফুটবলারদের পাওয়াও কঠিন। টুর্নামেন্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এজন্য ফিফা উইন্ডোর বাইরে বাংলাদেশে খেলতে আসতে পারে, এমন বিদেশি দলের খোঁজ করছে তারা। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে দেখবো, ফিফা উইন্ডোর বাইরে বিদেশের কোনো দল অনানুষ্ঠানিকভাবে খেলতে আসে কি না। একটা প্রীতি ম্যাচ খেলতে হবে। আমরা কিছু ক্লাবের সঙ্গেও কথা বলবো।’ সাফের আগে ঘরোয়া লীগের মাঠের নাজুক অবস্থা এবং ফুটবলারদের চোটের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি।

সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়েও সমালোচনা কম নয়। সর্বশেষ আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯ গোল হজম করেছে বাংলাদেশ। এমন ভরাডুবির পর কোচ টমাস ডুলিও আছেন সমালোচনার মুখে। তবে কোচিং স্টাফে পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তাবিথ। তিনি বলেন, ‘ফুটবল বিশ্বে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে এর মানে এই নয় যে, আমরা এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দলের প্রয়োজনে যেকোনো সময় যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার পথ খোলা রয়েছে।’ ফিফা উইন্ডোর আগে ক্লাবগুলো খেলোয়াড় ছাড়তে বাধ্য নয়, সেটিও স্বীকার করেছেন তাবিথ। তবে হামজাদের পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাবে বাফুফে। তিনি বলেন, ‘ফিফা উইন্ডোর আগে ক্লাবগুলো খেলোয়াড় ছাড়তে বাধ্য নয়। তারপরও আমরা ক্লাবগুলোকে চিঠি দেবো। দেখা যাক, কী হয়। তবে ভুটান ম্যাচে না পেলেও শ্রীলঙ্কা ম্যাচে পুরো স্কোয়াড পাবো।’ ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচটি সহজ হবে, এমন নিশ্চয়তা অবশ্য নেই।

অতীতে এই দলের কাছে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের। সাম্প্রতিক সময়েও দুই দলের লড়াই হয়ে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। একসময় যে ভুটানকে সহজেই হারিয়ে দিতো বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে সেই দল এখন নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছে। তবে অতীতের ফল কিংবা প্রতিপক্ষের সাম্প্রতিক উন্নতি নিয়ে পড়ে থাকতে রাজি নন ৬৫ বছর বয়সী কোচ ডুলি। ভুটানকে ভয় না পেয়ে জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামতে চান তিনি। এ প্রসঙ্গে ডুলির বক্তব্য, ‘ঠিক আছে, তাহলে আমাদের এখন তাদের হারাতেই হবে। আমাদের কি হাল ছেড়ে দেয়া উচিত? অবশ্যই না। যদি আমরা ভুটানকে ভয় পাই...।’