দেশের ভেতর সন্ত্রাস এবং নানা রকম সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা প্রকাশ্য তাদের দলের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ) প্রধান করে থাকেন, তাতে সরকারের দিক থেকে রিকনসিলিয়েশনের ইনিশিয়েটিভ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না—বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক ইস্যুতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘রিকনসিলিয়েশন নিয়ে গত সপ্তাহে যা বলেছি—তা একটু ক্লারিফাই করা দরকার। আমি বলেছিলাম যে, ৫ আগস্টের পরে এই আলাপটা অনেকে করেছেন। এটা শুনতে খারাপও মনে হয় না। যে ফান্ডামেনটাল আছে, খুবই বেসিক যে, রিকনসিলিয়েশনের জন্য, প্রথমত একটা কথা বলে রাখা ভালো, রিকনসিলিয়েশনের ন্য, মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ যারা করেছেন, তাদের বিচার তো হতেই হবে, এটা ক্রিমিনাল অফেন্স। রিকনসিলিয়েশনের অলাপ হয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে, কোনো কোনো জায়গায়, কারও কারও অপরাধের ক্ষেত্রে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলেছিলাম যে, একটা দল মানবতাবিরোধী অপরাধ করে চলে গেছে, তার জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অনুতপ্ত হওয়ার লক্ষণ নেই। উপরন্তু এটা আরও জরুরি কথা, তারা নানা রকম কেওয়াজ করার চেষ্টা করছে। নানা রকম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে হেনস্থা করার প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, ‘আজ সকালেই দেখলাম, ড. ইউনূস, তিনি এখন দেশের বাইরে আছেন। আমেরিকাতে আছেন, সেখানে এয়ারপোর্টে তাকে হেনস্থা করার চেষ্টা করা হয়েছে। তার অপরাধ হচ্ছে—শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি কেন রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েছেন। ইউনূসের সরকার নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনা যে কারও থাকতে পারে। আমার এই দেশে বসে অনেকে সমালোচনা করেছি। সুতরাং এই প্রতিটা পদক্ষেপ। শুধু সেটা না, আমাদের গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের আচরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে আমেরিকাতে। সুতরাং যে দলটা, এই ধরনের কাজ করে বেড়ায় এবং দেশের ভেতর সন্ত্রাস ও নানা রকম সহিংসতা উসকে দেয়ার চেষ্টা প্রকাশ্যে তাদের দলের প্রধান করে থাকেন। সেখানে রিকনসিলিয়েশনের আলাপের ব্যাপারে সরকারের যা বোঝার ব্যাপার, তা হয়ে যায়। সরকারের দিক থেকে ইনিশিয়েটিভ নেয়ার প্রশ্নই আসে না।’
