২২ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েটের ভিসি, অসুস্থ একাধিক ব্যক্তি

২২ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েটের ভিসি, অসুস্থ একাধিক ব্যক্তি

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে প্রশাসনিক ভবন-২-এ ২২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ তার সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। জরুরি চিকিৎসার জন্য মধ্যরাতে অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডাকা হয়। অসুস্থ দুই সাবেক শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নগরীর একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে অবরুদ্ধ অবস্থায় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। তিনি বলেন, ‘আমরা অবরুদ্ধ রয়েছি। অনেকে সাফোকেশনে ভুগছেন। ঘুমানোর কোনো স্থান নেই। বিদ্যুৎহীন থাকায় আমরা অনেক কষ্টে আছি।’
রাত ১টার দিকে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও টেকনোলজিস্ট বাসু দেব ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এ সময় দুটি অ্যাম্বুলেন্সও উপাচার্য ভবনের সামনে রাখা হয়।
চিকিৎসক জানান, প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ ১৭০/১০০ মিলিমিটার পারদ পাওয়া গেছে। পরে তাকে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য সাবেক শিক্ষার্থী প্রকৌশলী টিটু মো. সোহানের রক্তচাপ পাওয়া যায় ১৪০/৯০। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শে ভবনের ভেতরে অবস্থানরত অন্যদেরও স্যালাইন দেওয়া হয়।
চুয়েট সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ উপাচার্য ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের জন্য খাবার পাঠান। রাতে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে উপাচার্য নিজেই অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসাকর্মীদের ডেকে পাঠান। পরে শিক্ষার্থীদের অনুমতি নিয়ে চিকিৎসকেরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।

এর আগে সোমবার সকাল ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ২১ দিন পর নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। এ সময় তার সঙ্গে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী, বহিরাগত ব্যক্তি ও অধ্যাপক আরাফাত রহমান উপস্থিত ছিলেন।
পরে উপাচার্যকে চুয়েট ত্যাগের জন্য দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ও তার সহযোগীরা ভবন না ছাড়ায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে উপাচার্যসহ তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। দিনভর ভবনের সামনে স্লোগান দিয়ে উপাচার্যের নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনকারীরা।

একপর্যায়ে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে এলে তারা ‘অনলাইন ভিসি, অনলাইন ভিসি’ এবং ‘যেই ভিসি ছাত্র মারে, সে আমার না’ স্লোগান দেন।

এর মধ্যে রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) চুয়েটে গিয়ে উপাচার্য ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ চালু করার অনুরোধ জানান। তবে শিক্ষার্থীরা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

এদিকে, সোমবার বিকেলে রাউজানের মদুনাঘাটসহ কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীদের বাসে উপাচার্যের সমর্থকেরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, হামলায় বাস ভাঙচুরের পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে একই দিন বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।

চুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তিও।
অন্যদিকে, চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন বিবৃতি দিয়ে অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে।
এ ছাড়া অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল, নবনিযুক্ত উপাচার্যের পদত্যাগ এবং শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন ঢাকায় অবস্থানরত সাবেক চুয়েট শিক্ষার্থীরা।