পবিত্র মক্কা ও মদিনার ওপর কোনো হুমকি এলে বাংলাদেশ বসে থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। বলেছেন, মক্কা-মদিনা সারা বিশ্বের মুসলমানদের ঐক্যের জায়গা। এটি সাধারণ কোনো কূটনৈতিক বিষয় নয়। এর সঙ্গে আবেগ জড়িত। তাই মক্কা ও মদিনার ওপর হুমকি এলে বাংলাদেশ অবশ্যই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে।
গতকাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এর আগে বিআইআইএসএস আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পরিবর্তনশীল বিশ্বে পথপরিক্রমা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।
সেমিনারে সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন এবং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান। সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ সময় সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাত, মধ্যপ্রাচ্যের ওপর বাংলাদেশের জ্বালানিনির্ভরতা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা এবং আলোচিত মক্কা জোটে বাংলাদেশ থেকে সৈন্য পাঠানোর বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়।
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের তরফে সৌদি আরবের প্রয়োজনে সেনা পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ এখনো মক্কা জোটে যোগ দেয়নি। আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দিলে সেনা পাঠানোর প্রশ্ন আসবে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো যোগ না দেয়ায় এই মুহূর্তে সেনা পাঠানোর কোনো প্রশ্নই নেই। তবে সৌদি আরবে যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে বাংলাদেশের সংহতি রয়েছে। বাংলাদেশ চায়, অবিলম্বে এ ধরনের হামলা বন্ধ হোক। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সৌদি যুবরাজের কাছে একটি চিঠিও দেয়া হয়েছে। সৌদি আরবের জনগণ ও সরকারের পাশে রয়েছে বাংলাদেশ।
গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ওই হামলায় ২৪ জনের বেশি বাংলাদেশি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন। তিনি বলেন, এতে সাধারণ মানুষ নিহত হচ্ছে, পরিবারগুলো ধ্বংস হচ্ছে। আমরা আশা করি, শিগগিরই এই অবস্থার অবসান ঘটবে।
বিআইআইএসএসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে চারটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর ও ড. সুফিয়া খানম এবং গবেষণা ফেলো এএসএম তারেক হাসান শিমুল ও আয়েশা বিনতে তৌহিদ।
গবেষণাপত্রগুলোতে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ন রেখে পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জাতীয় স্বার্থনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের সমন্বয়, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সমপ্রসারণের বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষা এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা মোকাবিলার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সেমিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক এবং বিভিন্ন থিঙ্কট্যাঙ্কের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
