টিকাটুলিতে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় প্রাণ গেল নারীর

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর ওয়ারীর টিকাটুলি এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় দুই বাসের প্রতিযোগিতায় রিনা রানী দাস (৪০) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুর একটার দিকে ছোট ছেলেকে স্কুলে দিয়ে বাসায় ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রিনা রানীর বড় ছেলে প্রণয় ঘোষ বলেন, আমার ছোট ভাই পৃথুরাজ ঘোষ (১২) নবাবপুর স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। মা পৃথুকে স্কুলে রেখে দুপুরে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন। সে সময় টিকাটুলি ফুটওভার ব্রিজের নিচে সড়কে রাস্তা পারাপারের সময় দুই বাসের প্রতিযোগিতায় বাসের ধাক্কায় রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে বিকাল ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহত রিনা রানী ঘোষের স্বামী বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, আমাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামে। দুই ছেলে ও স্ত্রীসহ আমরা বর্তমানে ওয়ারীর কে এম দাস লেনের স্বামীবাগ এলাকার বি/৩১৮/৭ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকি। ঠাঁটারীবাজারে মাছ কাটার কাজ করি। আর আমার স্ত্রী নিহত রিনা বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। বিশ্বজিৎ বলেন, আমার ছোট ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাসায় ফিরছিল রিনা। এরই মধ্যে সব শেষ। এই বাসচালকদের জন্য আমার পরিবারটা আজ ভেসে গেল। দুই ছেলে নিয়ে আমি এখন কী করবো? কোথায় যাবো? তিনি বলেন, এই বেপরোয়া বাসের জন্য শুধু আমার স্ত্রী নয়, আগেও বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলকে জানানো হয়েছে। ডিসি ট্রাফিককে চিঠি পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। এরপরও আজ পর্যন্ত কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। একটা স্প্রিড ব্রেকার পর্যন্ত এখানে দেয়া হয়নি। এত মানুষের প্রাণ যাওয়ার পরও কারও কোনো ভ্রƒক্ষেপ নেই।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ারী থানার এস আই আবুবক্কর বলেন, আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, এই ঘটনায় দোয়েল ও বন্ধন পরিবহন নামে দু’টি গাড়ি এবং ড্রাইভার- হেলপারকে ওয়ারী থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।