গর্ভের সন্তান ‘বিক্রি’ করতে চান আঁখি

গর্ভের সন্তান ‘বিক্রি’ করতে চান আঁখি

ফন্ট সাইজ:

তৃতীয় বারের মতো মা হতে চলেছেন মোসা. আঁখি। বয়স সবে ২৪। কিন্তু সন্তানকে ঘিরে আনন্দ নেই তার মনে। আছে শঙ্কা। আরাধ্য এই সন্তান ‘বিক্রি’ করতে চান এই মা। অভাবের সংসার। স্বামী অসুস্থ, ঘরে দুই সন্তান। আট মাসের গর্ভবতী এই নারী বাধ্য হয়ে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে নিয়মিত প্ল্যাকার্ড হাতে সাহায্য তোলেন। তাতে লেখা— আমি গর্ভের সন্তানটি দান করতে চাই, ভালো একটি পরিবারে। আমি অসহায়, আমাকে সাহায্য করুন। চাঁদ উদ্যান এলাকায় থাকে এই অসহায় পরিবারটি। নারী মৈত্রী পরিচালিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সোমবার তাকে পরীক্ষা করানো হয়। ফলাফলে জানানো হয়— তিনি ৩২ সপ্তাহের গর্ভবতী।

আঁখি বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ। এজন্য আমার প্রায় দেড় লাখ টাকা ঋণ হয়েছে। এই টাকার জন্য মানুষ আমাকে অনেক চাপ দিচ্ছে। এই টাকা পরিশোধের জন্য আমার বাচ্চাটাকে দিতে চাই একটা ভালো পরিবারের কাছে। আর তারা আমাকে একটু আর্থিকভাবে সাহায্য করবে। এছাড়া আমার আর কোনো চাওয়া নাই। আমার স্বামী স্ট্রোক করেছিল। এখন কোনো কাজ করতে পারে না। আমার ছেলের বয়স সাড়ে চার বছর, মেয়ের বয়স তিন বছর। গর্ভের বাচ্চার বয়স ৮ মাস। ডিসেম্বরের ১০ তারিখে ডেলিভারির ডেট। ঋণ পরিশোধের দেড় লাখ টাকা পেলে আমি বাচ্চাটা দিয়ে দেবো। আর ভালো একটা পরিবার চাই যাতে, বাচ্চাটা মানুষের মতো মানুষ হয়।
তিনি বলেন, আজকে যদি সন্তানের বাবা মাথার উপর না থাকে তাহলে কীভাবে মানুষ করবো। এই কথা বলতে বলতে তার দু’চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। আমি যে সাহায্য তুলি সেটা আমার স্বামী জানে না। আমি খুব গরিব ঘরের মেয়ে। পরিবারের কাছেও যাওয়ার উপায় নাই। আমার স্বামী জানে আমি একটা বাসায় কাজ করি। আমি এক মাস ধরে এই প্ল্যাকার্ড ধরে রাস্তায় বসি। আমার স্বামী জানলে অনেক কষ্ট পাবে। কিন্তু আমার করার কিছু নাই। বাধ্য হয়েই বসতে হয়। তিনি জানান, দু’জন যোগাযোগ করেছেন তার সঙ্গে। তারা জানিয়েছেন ছেলে বাচ্চা হলে নেবেন।

তার সঙ্গে যাওয়া হয় তাদের বাড়িতেও। বস্তিতে তার বাড়ি। ছোট্ট একটা রুমে তাদের বাস। মাটিতে বিছানা পাতা। দু’টা খাটের সমান কক্ষ। ভাড়া দিতে হয় ৩৫০০ টাকা। তার স্বামীর নাম রাজীব। স্ট্রোক করার পর আর চিকিৎসা করাতে পারেননি। তবে কবিরাজের শরণাপন্ন হয়েছেন একাধিকবার। লাভ হয়নি। রাজীব রোদের মাঝে যেতে পারেন না। সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। বেশি সময় থাকতেও পারেন না দাঁড়িয়ে।