জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে অব্যাহত লড়াইয়ের অঙ্গীকার

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে অব্যাহত লড়াইয়ের অঙ্গীকার

ফন্ট সাইজ:

নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ইন্ডিয়া জোট এবং তেলাপোকা জনতা পার্টির আন্দোলন সমানভাবে চলছে। সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকার কথা ঘোষণা করেছে ইন্ডিয়া জোট। আর তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে এখন সারা দেশ যন্তর মন্তর হয়ে উঠবে। যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাতিল করার প্রতিক্রিয়াতেই অভিজিৎ দীপকে একথা বলেছেন।

বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সকল নাগরিককে এই আন্দোলন সমর্থন জানানোর আহ্বান জানান।
গতকাল বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের নেতারা সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশ্যে যে পদযাত্রা করেছিলেন তাতে হাজারের বেশি মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। জোটের নেতারা যখন পদযাত্রা করছিলেন, তখন তাদের আইনি দল মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’-র অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন বা আবেদন দাখিল করেছেন। রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আবেদনের প্রধান আবেদনকারী। অন্যান্য আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস প্রধান মল্লিকার্জুন খাড়গে, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, আরজেডি তেজস্বী যাদব, তৃণমূলের সৌগত রায়, শিবসেনা (ইউবিটি)-এর সঞ্জয় রাউত, জেএমএম-এর মহুয়া মাঝি, সিপিএমের এমএ বেবি, এনসিপি (এসপি)-এর সুপ্রিয়া সুলে এবং আইপিআইইউ-এর মহম্মদ সুলে, সিপিআইইউ-এর মহম্মদ রাজে।

ইন্ডিয়া জোটের পদযাত্রা উপলক্ষে রাজধানী জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। ‘ইন্ডিয়া’ বিরোধী জোটের ব্যানারে আয়োজিত ‘চলো দিল্লি- গণতন্ত্রের জন্য পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিরোধী নেতারা কনট প্লেস-বারাখাম্বা রোড সংযোগস্থলের কাছে একত্রিত হয়েছিলেন। রাহুল গান্ধী তার দুই পাশে বোন প্রিয়াঙ্কা এবং আইসা)-র প্রধান নেহা বোরাকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে পদযাত্রার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের হাজার হাজার সমর্থক ও নেতা। কিছুটা পথ এগোনোর পর পুলিশ বিরোধী নেতাদের আটকে দেয়। এই সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি হয়েছে। ঘটনাস্থলের দৃশ্যগুলোতে দেখা যায়, রাহুল গান্ধী একটি ট্রাকের উপর দাঁড়িয়ে আছেন এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব ও আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবসহ বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতাও সেই গাড়ির উপর তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।
এই বিক্ষোভ জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রচারণাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তার পদ থেকে ইস্তফা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগে কংগ্রেস সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত, সংবিধান সমুন্নত না হওয়া পর্যন্ত এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘পদত্যাগ করুন এবং সরকারি সাক্ষী হয়ে যান।
তিনি বলেছেন, ‘আমূল সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত বিরোধীদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।’
এদিকে তেলাপোকা জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আন্দোলনকে তীব্র করার বার্তা দিয়েছেন। সোমবার সকালে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য একটি তারিখ নির্ধারণের অনুরোধ জানাতে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাসহ সিজেপি’র নেতারা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়েছিলেন। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজনের তারিখ জানানোর জন্য সিজেপি দিল্লি পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছে।

তবে এদিনই জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক আন্দোলনের মাঝে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, ওই স্থানটিকে ইতিমধ্যেই একটি ‘যুদ্ধক্ষেত্রে’ পরিণত করা হয়েছে। এক্স-এ একটি পোস্টে দীপকে লিখেছেন: ‘ওরা যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। হ্যাঁ, এটা আর প্রতিবাদস্থল নয়, কারণ কাপুরুষ স্বৈরশাসক তো এমনিতেও এটাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছিল। এখন পুরো দেশ যন্তর মন্তর হবে!’
দিল্লি পুলিশ জাতীয় রাজধানীতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে যন্তর মন্তরকে তালিকাভুক্ত করা বাতিল করেছে এবং এই ধরনের সমাবেশের জন্য তিনটি বিকল্প স্থানের নাম উল্লেখ করেছে।
১১ই অক্টোবর, ২০২৬ তারিখের একটি স্থায়ী আদেশ অনুসারে, পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড, রামলীলা গ্রাউন্ড এবং বুরারি গ্রাউন্ডকে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের স্থান হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে যে, এই তিনটি নির্ধারিত স্থানে প্রতিবাদ আয়োজনের জন্য সংশোধিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) আলাদাভাবে জারি করা হবে।
দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার স্বাক্ষরিত এই আদেশটি ২৮শে এপ্রিল, ২০২২ তারিখের পূর্ববর্তী একটি স্থায়ী আদেশকে সংশোধন করা হয়েছে, যেখানে যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদের স্থান হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এ অনিয়মের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে চলমান প্রতিবাদের মধ্যেই এই পদক্ষেপটি নেয়া হয়েছে।