সিলেটের মাদক স্পটে যে কারণে খুন হৃদয় কুমার

সিলেটের মাদক স্পটে যে কারণে খুন হৃদয় কুমার

ফন্ট সাইজ:

হৃদয় কুমার হরিজন। সিলেটের তরতাজা এক যুবক। তুচ্ছ ঘটনায় খুন হলো সে। তবে আড়ালে অনেক ঘটনা। অভিযোগ করা হচ্ছে, স্ত্রীর গোপন ছবি তুলতে বাধা দেয়ায় খুন করা হয়েছে স্বামী হৃদয় কুমারকে। তবে পুলিশের ব্যাখ্যা ভিন্ন। তারা বিষয়টিকে খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। রাতের ঘটনা। সবাই জানেন কাস্টঘরে কী হয়? রাত নামলেই কাস্টঘর পরিণত হয় মাদক স্পটে। হরিজনদের বাস ওখানে। তারা মাদক সেবন করে। সেটা সবাই জানেন। আর এই সুযোগে কাস্টঘরেই অবস্থান নেয় নগরের পরিচিত, অপরিচিত সব মাদকসেবীরা। আগে মাদক বিক্রি ও সেবন হতো প্রকাশ্যে। ভয়ে এখন হয় গোপনে। পুলিশ তৎপর।

গত দুই মাসে সিলেট নগর পুলিশ কাস্টঘরে কমপক্ষে ৫ বার ব্লক রেইড চালিয়েছে। ওই আস্তানাসহ আশপাশ এলাকা থেকে অর্ধশতাধিক মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীকে আটক করেছে। তবুও কাস্টঘরের আস্তানায় মাদক বিক্রি কমেনি। দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। কাস্টঘরের সামনেই পুরাতন জেল কোয়ার্টার। সেটি এখন পরিত্যক্ত। রাত হলেই সেখানে অবস্থান নেয় মাদকসেবীরা। আর ওখান থেকে কাস্টঘরের দিকে হাত বাড়ালেই মিলে মাদক। বিশেষ করে ইয়াবা। হরিজন পট্টি থেকে জানালা দিয়ে বিক্রি হয় এই মাদক। হৃদয় কুমার হরিজনের স্ত্রী পিংকির বিরুদ্ধেও মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের ভয়ে এখন কাস্টঘরে যায় না মাদকসেবীরা। নির্জন স্থানের জানালা দিয়ে বিক্রি করে মাদক। কখনো কখনো পরিচিতজন হলে ঘরেও যায়।

রোববার রাত তখন ৯ টা। হৃদয় কুমারের স্ত্রী পিংকি রানী ইয়াবা বিক্রি করছিল। কেউ ঘরে গিয়ে আবার কেউ জানালা দিয়ে মাদক কিনে যাচ্ছিল। কয়েকজন যুবক গোপনে সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করছিল। বিষয়টি নজর এড়ায়নি হৃদয় কুমার ও তার স্ত্রীর। প্রথমে তারা ঘরের ভেতর থেকেই ছবি তুলতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে হৃদয় কুমার ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসেন। ছবি তুলছিল আমিনসহ কয়েকজন যুবক। তাদের সঙ্গে তর্কে জড়ায় কুমার। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা হৃদয়কে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় কুমারকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। হৃদয়ের ছোট ভাই অজয় হরিজন জানিয়েছেন, বখাটে আমিনসহ কয়েকজন মিলে তার ভাইকে হত্যা করেছেন। ভাবির ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

হৃদয় সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। এদিকে আলোচিত এ ঘটনার পর পুলিশ সক্রিয় হয়। হৃদয়ের খুনিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে। তবে গতকাল বিকাল পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সিলেটের কোতোয়ালি থানার ওসি খান মো. মাইনুল জাকির জানিয়েছেন, স্ত্রী’র ছবি তোলা না মাদক বিক্রি কালের ছবি তোলা নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, যারা হৃদয়কে খুন করেছে তাদের কয়েকজনের নাম পুলিশের হাতে এসেছে। তাদের গ্রেপ্তারে রাত থেকেই পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। গতকাল সন্ধ্যায় পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে, গতকাল দুুপুরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্ত শেষে হৃদয় কুমারের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিকালে চালিবন্দর এলাকায় তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ হয়েছে। খুনের ঘটনায় হরিজনদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। হরিজনের সমাজপতিরা জানিয়েছেন, বিষয়টি মাদক সংক্রান্ত হলেও হৃদয়কে কুপিয়ে খুন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা খুনিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান।