ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা পরবর্তী তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, ইতিমধ্যে পুলিশের পূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো মহল বা গোষ্ঠী যাতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে সেজন্য সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। এক্ষেত্রে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। আইজিপি বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারো দুর্গাপূজা নিরাপদে আনন্দঘন পরিবেশে উদ্যাপিত হবে। দুর্গাপূজা চলাকালে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং অন্যান্য পুলিশ ইউনিটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু থাকবে।
এ ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, অপপ্রচার, গুজব বা ছবি আপলোড করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা এবং নিয়মিত পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের জন্যও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি। পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করুন। পূজা চলাকালে সিসিটিভি সক্রিয় রাখা, পূজামণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলো, স্ট্যান্ড বাই জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা, প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।
আয়োজিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, এসআরইউ’র অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, এসআরবি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজি) মো. আহসান হাবীব পলাশ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর প্রমুখ।
তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন, পাঁচ ট্রেনের ছুটি বাতিল
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঘরমুখী যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। একইসঙ্গে যাত্রীচাপ সামাল দিতে পাঁচটি নিয়মিত ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি (অফ-ডে) বাতিল করা হয়েছে। আগামী ১৯ থেকে ২৪শে অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন দিনে এসব বিশেষ ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। গতকাল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দুর্গাপূজা উপলক্ষে পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০শে অক্টোবর চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে চলবে ঢাকা স্পেশাল-৩, ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ২০, ২৩ ও ২৪শে অক্টোবর চলাচল করবে ট্যুরিস্ট স্পেশাল-১ ও ২। এছাড়া ২৪শে অক্টোবর ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলবে চট্টগ্রাম স্পেশাল-৪।
একইসঙ্গে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ১৯ ও ২০শে অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ও রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসের ১৯শে অক্টোবর, পদ্মা এক্সপ্রেসের ২০শে অক্টোবর এবং মধুমতি এক্সপ্রেসের ২৪শে অক্টোবরের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত দিনগুলোতে ট্রেনগুলো নিয়মিত চলাচল করবে। পূজার সময় যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে পূর্বাঞ্চলে ২৩টি মিটারগেজ কোচ এবং পশ্চিমাঞ্চলে ছয়টি ব্রডগেজ কোচ যাত্রীবাহী ট্রেনের বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
