চোরাচালান চক্রের হাতেই খুন সিলেট যুবদল কর্মী বদরুল

চোরাচালান চক্রের হাতেই খুন সিলেট যুবদল কর্মী বদরুল

ফন্ট সাইজ:

সিলেটের গোয়াইনঘাটের হাদারপাড়। জেলার মধ্যে পরিচিত একটি চোরাচালান রুট। অনেক আগে থেকেই প্রভাবশালী একটি গ্রুপ সব ম্যানেজ করে ওই রুটে দিনে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করে আসছে। তাদের দাপট এতটাই চাঁদা না দিলে তারা যে কাউকে খুন করে ফেলে। এমন ঘটনা রোববার ভোরে ঘটিয়েছে ওই চোরাচালান রুটের নিয়ন্ত্রক বাহিনীর সদস্যরা। হাদারপাড় এলাকার যুবদল নেতা ও সমাজসেবক বদরুল আলমকে চোরাচালান চক্র নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করেছে। চোরাকারবারিদের পৈশাচিক এ ঘটনা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। হাদারপাড়ের পাশে গোরারাই এলাকা। সীমান্ত রুট। প্রতিদিন ওই রুট দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে শত শত গরু ও মহিষ নামে। চোরাচালান লাইনের নিয়ন্ত্রক গোলাম হোসেনসহ সিন্ডিকেটরা। প্রশাসনসহ সবাইকে ম্যানেজ করে আওয়ামী লীগ আমল থেকেই গোলাম হোসেন ও সহযোগীরা লাইন নিয়ন্ত্রণ করে।

সীমান্ত পথ দিয়েই গরু বা মহিষ নামলেই তাদের দিতে হয় টাকা। বিজিবি, পুলিশ ও ডিবি’র নামে ওই চক্রের সদস্যরা টাকা তোলে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- সীমান্ত পথ গোরারাই নিয়ন্ত্রণ করতো ওই চক্রের লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্য মামুন, শাহীন, তুহিন, ফয়েজ, ছালিমসহ কয়েকজন। সন্ধ্যা নামলেই তারা অবস্থান নেয় ওই রুটে। রাতভর করে চাঁদাবাজি। এরপর নিজেদের কমিশন রেখে চাঁদার টাকা পাঠিয়ে দেয় নিয়ন্ত্রকদের কাছে। নিহত বদরুল আলমের বাড়ি হাদারপাড় গ্রামে। তার পিতা তজম্মুল আলী। বদরুল একজন ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। পার্শ্ববর্তী আড়কান্দি মহালে বালু ব্যবসা করেন বদরুল। তিনি রুস্তমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমানে গোয়াইনঘাট উপজেলা যুবদলের পদপ্রত্যাশী ছিলেন। প্রতিদিন দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত তিনি আড়কান্দিতেই থাকেন।

রাতে বাড়ি ফিরেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন- রোববার ভোররাত ৪টার দিকে সঙ্গী সাদেক হোসেনসহ আড়কান্দি থেকে বাড়ির পথে রওয়ানা দেন বদরুল আলম। সঙ্গে ছিল ব্যবসার ৩০ লাখ টাকা। আসার পথে তার মামা ও বর্ডারের ব্যবসায়ী শামসুল ইসলাম বদরুল আলমকে ফোন দেন। জানান- গোরারাই মসজিদের ওখানে চাঁদা নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে। ওই এলাকায় যাওয়ার জন্য তিনি বদরুলকে বলেন। মামার ফোন পেয়ে বদরুল ইসলাম সঙ্গে থাকা সাদেককে নিয়ে ওই এলাকায় যান। সেখানে তখন দাঁড়িয়ে ছিল চোরাচালান রুটের নিয়ন্ত্রকদের লাঠিয়াল মামুন, শাহীন, তুহিনসহ ১০-১৫ জন লোক। বদরুল সেখানে যাওয়ার পর চাঁদা উত্তোলন নিয়ে ওদের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে ওই বাহিনীর সদস্যরা রামদা, দা ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। সঙ্গে থাকা সাদেক হোসেন জানিয়েছেন- মামুন, শাহীন ও তুহিনের নেতৃত্বে ঘাতকরা দলবেঁধে বদরুলকে মারধর করে। একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। সঙ্গে থাকা টাকাও ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয় লোকজনদের সহযোগিতায় ভোরে বদরুলকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে খুনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ঘাতকরা গা ঢাকা দেয়। খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ গিয়ে এলাকায় অভিযান চালালেও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। গতকাল বিকালে নিহতের বড় ভাই আখলাকুল আম্বিয়া মানবজমিনকে জানান- বদরুলের সঙ্গে যে টাকা ছিল সেটি ছিল তার ব্যবসার টাকা।

প্রতিদিনই সে এভাবে আড়কান্দি থেকে বালু ব্যবসার টাকা নিয়ে আসতো। বদরুলকে খুনের পর ঘাতকরা টাকা নিয়ে চলে গেছে। তিনি বলেন- গোরারাই এলাকায় ঘাতকরা প্রতিদিনই অরাজকতা চালাতো। তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল এলাকার মানুষ। তাদের শেল্টারে ছিল প্রভাবশালী চক্র। খুনিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনে বিচারের দাবি জানান আখলাকুল। গোয়াইনঘাট থানার ওসি ওমর ফারুক জানিয়েছেন- খুনের ঘটনার পর পরই পুলিশ প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়ে কয়েকজনের নাম পেয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।