আশুলিয়ায় ঝুটের গোডাউনে আগুন

ফন্ট সাইজ:

আশুলিয়ার জামগড়া তেঁতুলতলা এলাকায় ঝুটের গোডাউন থেকে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ৩টি এবং জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ৩টিসহ ৬টি ইউনিটের টানা সাড়ে ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত সোয়া ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। একটি ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৭ গোডাউন ভস্মীভূত হয়েছে। এ ছাড়া, আগুন পাশের বেশ কয়েকটি বাসাবাড়িতেও ছড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর পেয়ে আশুলিয়ার ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিস থেকে দু’টি ইউনিট এবং জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করে ফায়ার সার্ভিস ও শিল্প পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় অবস্থিত ফ্যান্টাসি কিংডমের ওয়াটার কিংডমের পূর্ব পাশের নূরে মদিনা মাদ্রাসার সামনে আলাউদ্দিনের ঝুটের গোডাউন থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। এ সময় আগুন দ্রুত আশপাশের অন্যান্য ঝুটের গোডাউন এবং বাসাবাড়িতে ছড়িয়ে পড়লে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে।

পরে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিস ও জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিস থেকে ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থল পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে ৬টি ইউনিটের টানা সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাত পৌনে ১০টার দিকে হঠাৎ আলাউদ্দিন ও বাবুল মিয়ার মালিকানাধীন একটি ঝুটের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। তবে রাস্তায় যানজট থাকায় সময়মতো ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।

এ সময় স্থানীয়রা নিজস্ব প্রচেষ্টায় বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে পানি নিয়ে আগুন নির্বাপণের চেষ্টা করে। কিন্তু আগুন দ্রুত আশপাশের আরও কয়েকটি গোডাউনে ছড়িয়ে পড়লে ঝুঁকির মুখে পড়ে যায় আশপাশের বাসাবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, বাইপাইল থেকে জামগড়া পর্যন্ত পুরো রাস্তায় তীব্র যানজটের কারণে গাড়িগুলো সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও গোডাউনে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নেভাতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত গোডাউন মালিক মো. ইমন জানান, ওই এলাকায় মোট ১৭টি গোডাউন ও দোকান ছিল। এর মধ্যে বাম পাশের ৩-৪টি গোডাউন আংশিক রক্ষা পেলেও বাকি সবক’টি গোডাউন ও দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোন-৪ এর উপ-সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, এখনো ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করতে আরও বেশ কিছু সময় লাগবে।

আগুনের ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, পানি পেতে সবচেয়ে বেশি বেগ পেতে হয়েছে। আগুনের ঘটনায় এখানে ১২-১৩টি গোডাউন ও গোডাউনে থাকা সমস্ত মালামাল পুড়ে গেছে। তবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখন নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।