নাহিদ রানার জন্য অপেক্ষা করে অবশেষে ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য ওয়ানডে দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। ইনজুরির কারণে এই সিরিজে তার খেলা হচ্ছে না। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এই সিরিজকে সামনে রেখে গতকাল লিটন দাসের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দলের সহ-অধিনায়ক হন তাওহীদ হৃদয়। স্কোয়াডে স্থান পেয়েছেন আলিস আল ইসলাম। তিনি এর আগে এশিয়ান গেমসের দলে ছিলেন। এবার ওয়ানডে দলের স্পিন অস্ত্র হিসেবে তাকে দলে সুযোগ দেয়া হয়েছে। ১৭ই অক্টোবর আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ খেলা শুরু করবে ত্রিদেশীয় সিরিজে। ১৯শে অক্টোবর আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তান মুখোমুখি হবে। ২১শে অক্টোবর শারজাহতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। ২৩শে অক্টোবর একই ভেন্যুতে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। বিসিবি নির্বাচক প্যানেল চোট এবং অন্যান্য কারণে কিছু পরিবর্তন আনলেও দলের ভারসাম্য ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। স্কোয়াডে আছেন তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম ও আলিস আল ইসলাম।
অন্যদিকে ঘোষিত এই স্কোয়াডের ব্যাটিং বিভাগের ধারাবাহিকতাহীনতার চিত্র স্পষ্ট। সহ-অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় শেষ ১০ ওয়ানডেতে ৮৩ ও ৫৫ রানের ইনিংস খেলেছেন দুটি। তবে বাকি ম্যাচগুলোতে সেট হয়ে আউট। তিনি ফর্মে থাকলেও দলের বাকি ব্যাটাররা রানখরায় ভুগছেন। অধিনায়ক লিটন দাস তার শেষ ১০ ইনিংসে তিনবার শূন্য রানে আউট হয়েছেন। এছাড়া নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটেও রান নেই। শেষ ১০ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে কোনো ফিফটির ইনিংস আসেনি। এছাড়াও সৌম্য সরকার নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ১৬৯ রানের ইনিংস খেললেও অন্য ম্যাচগুলোতে রান পাননি। তবে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটিংয়ে ভরসা পেয়েছেন দলের সমর্থকরা। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সে স্পিনার আলিস আল ইসলাম স্কোয়াডে সুযোগ পাকা করেছেন। ব্যাটিং নিয়ে চিন্তার জায়গা থাকলেও বিসিবি ঘোষিত দলের ওপর আস্থা রাখছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।
ব্যাটিংয়ে ঘাটতি থাকলেও দলের বোলিং বিভাগ দারুণ ফর্মে রয়েছে। পেস বিভাগে শরিফুল ইসলাম শেষ ১০ ম্যাচে সেরা শিকার ৪/২১ ও ৩/৩৮ উইকেট। তার সাথে মুস্তাফিজুর রহমান ও হাসান মাহমুদের সুইং এবং ডেথ ওভারের বোলিং প্রতিপক্ষের রান আটকে দিতে সক্ষম। স্পিন বিভাগে মেহেদী হাসান মিরাজের অফ-স্পিন এবং রিশাদ হোসেনের লেগ-স্পিন বোলিংয়ের গভীরতা বাড়ায়। সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন আলিস। বোলিং বিভাগের এই ফর্মকে কাজে লাগিয়ে ব্যাটাররা নিজেদের মেলে ধরতে পারলে বাংলাদেশ শিরোপার দাবিদার হিসেবে মাঠে খেলবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই সিরিজে প্রতিটি ম্যাচ দলের জন্য পরীক্ষা হবে প্রচণ্ড গরমে। ১৭ অক্টোবর ম্যাচ দিয়েই বাংলাদেশ তাদের কাজ শুরু করবে ত্রিদেশীয় সিরিজের চ্যালেঞ্জে।
