রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক বেহাল

রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক বেহাল

ফন্ট সাইজ:

সড়কের এমন বেহাল দশা দেখে মনে হতে পারে এটি কোনো অজপাড়া গাঁয়ের সড়ক। তবে তা নয়, এটি রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক। যে সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে সে সড়ক হয়ে পড়েছে অসুস্থ। কোথাও দেবে গেছে পিচ, আবার কোথাও ভারী যানের কারণে সরে গেছে পিচ। বৃষ্টির পানিতে কোথাও হয়েছে গর্ত আবার কোথাও পিচ সরে দেখা যাচ্ছে ইট। এ সড়কের এমন দৃশ্য যে এবারই প্রথম নয়। বিশেষ করে রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর বাজার থেকে শুরু করে রংপুর মেডিকেল মোড় পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কের এমন বেহাল অবস্থা বছরে বেশ কয়েকবার দেখা দেয়। সংস্কার হয়, আবার নষ্ট হয়। এতে করে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পরিবহন চালক ও যাত্রীদের। এদিকে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে সড়কটি পুনর্নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই।

বাসচালক রঞ্জু মিয়া বলেন, এ সড়কটি স্থায়ীভাবে ঠিক হবে কবে। গত আড়াই বছরে ১০০ বারেরও বেশি সংস্কারকাজ হয়েছে কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। যাত্রী প্রশান্ত সরকার বলেন, প্রতিদিন অফিসে যেতে দেরি হয় এই ভাঙা সড়কের কারণে। সড়কের এমন অবস্থা দেখে কেউ বিশ্বাস করবে না এটি মহাসড়ক। ট্রাকচালক পাগলাপীর এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এক জায়গার গর্ত ভরাট করা হয়, কিছুদিন পর আবার সেখানে গর্ত হয়। এখন ইট দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। ভারী গাড়ি চলাচলে এগুলো কতোদিন টিকবে?’

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের রংপুর মেডিকেল মোড় থেকে পাগলাপীর বাজার, তারাগঞ্জের শলেয়াশাহ বাজার থেকে বরাতি সেতু, তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তারাগঞ্জ সেতু ও তারাগঞ্জ বাজার থেকে চিকলি বাজার পর্যন্ত সড়কের ১৭ কিলোমিটার অংশ ডিবিএসটিসহ সংস্কার করতে গত বছরের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৬ টাকায় কাজ পায় রাজশাহীর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। জুলাই পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারের ডিবিএসটি শেষ করার পর ওই অংশে সংস্কারকাজে অনিয়ম ধরা পড়ে টহলরত সেনাবাহিনীর একটি টিমের কাছে। সেখানে প্রতি বর্গমিটারে ৫ কেজি পাথর কম দেয়ার অভিযোগ ওঠে। ১০ কিলোমিটার সড়কে প্রায় ৩৬৫ টন পাথর না দিয়ে সংস্কারকাজ করা হয়। যার ফলে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের কার্পেটি উঠে গর্ত হতে শুরু করে।

রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সড়কটির ফ্লেক্সিবিলিটি নষ্ট হয়ে গেছে। আমি যতদূর জানি, এই সড়ক সংস্কার করে কোনো লাভ হবে না। আবারো নষ্ট হয়ে যাবে। সড়কটি পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দ্রুতই নির্দেশনা আসবে।