ভারতে ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের জন্য প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে দ্রৌপদী মুর্মুকে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। শুক্রবার রাতে ইন্ডিয়া জোটের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রেসিডেন্ট ভবনে দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেছেন। প্রায় একঘণ্টা বৈঠকে বিরোধী নেতারা জ্ঞানেশ কুমারের 'বেআইনি' কার্যকলাপের বিবরণ তুলে ধরেছেন। বৈঠক থেকে বেরিয়ে বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, প্রতিনিধিদলটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে এবং তিনি 'হতবাক' হয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মু তাদের অভিযোগ অস্বীকার বা প্রশ্ন না করেই তা গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট তাদের অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ দিতে বলেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিন বিরোধী দলের সাংসদরা সংসদ থেকে মিছিল করে প্রেসিডেন্ট ভবনে যাওয়ার সময় পুলিশ বিজয় চকে আটকে দিলে সেখানে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন। প্রেসিডেন্ট ভবনে যাদের নাম জমা দেওয়া হয়েছিল, সেই নেতারা স্মারকলিপিট হস্তান্তর করতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, "আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ভারতীয় গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। প্রেসিডেন্ট আমাদের কোনো বক্তব্যই অস্বীকার বা তার বিরুদ্ধে প্রশ্ন করেননি। আমরা যা বলেছি তা তিনি শুনেছেন । তবে আমাদের নির্বাচনী জালিয়াতির প্রমাণ দিতে বলেছেন। আমি তাকে বলেছি যে, ভোট চুরির প্রমাণ সারা দেশের জানা। একের পর এক রাজ্যে ভোট চুরি হয়েছে, তবুও প্রেসিডেন্ট আমাদের কাছে প্রমাণ চান। আমরা আনন্দের সঙ্গেই তা তার কাছে জমা দেব বলে জানিয়েছি।''
রাহুল গান্ধী বলেন,"আমি আশা করেছিলাম প্রেসিডেন্ট আমাদের অভিযোগ অস্বীকার করবেন। তিনি আমাদের কথা মেনে নেওয়ায় আমি হতবাক হয়েছি। প্রেসিডেন্টের কাছে যাওয়া ইন্ডিয়া জোটের প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিরোধী দল নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, সিপিআই-এর ডি রাজা, সমাজবাদী পার্টির নেতা রাজীব রায়, এনসিপি (এসপি) নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী আবদুল্লাহ, আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা এবং ভিসিকে নেতা থোল থিরুমাভালাভান।
