পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচন

দুই কেন্দ্রেই বিজেপি বিপুল ভোটে জয়ী

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫ রাউন্ড গণনার শেষে নন্দীগ্রামে ১,২২,৭৫৩ ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। অতীতের সব রেকর্ড ম্লান করে তিনি জয়ী হয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে কংগ্রেস। প্রায় ৫০ হাজারের কাছাকাছি ভোট পেয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। অন্যদিকে ৭৪ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগরেও ১৫ রাউন্ডের শেষে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭৫,৭৪৮ ভোটে জয়ী হয়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকে ভোট গণনা শুরু হয়েছিল। গত ৬ অক্টোবর উভয় কেন্দ্রেই নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল। বিজেপির বিপুল জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে জয়ের জন্য হাসি রানী রথকে অভিনন্দন জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন যে, এই জয়ের মাধ্যমে ওই কেন্দ্রে অতীতের সব জয়ের ব্যবধানের রেকর্ড ভেঙে গেছে। ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে অধিকারী এই ফলাফলকে “ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব” বলে অভিহিত করেছেন।

অধিকারী এই ফলাফলকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার এবং তাদের “জনকল্যাণমুখী, স্বচ্ছ ও উন্নয়ন-কেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা”র প্রতি সমর্থন হিসেবেও বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মানুষ অপশাসন ও বিশৃঙ্খলার পরিবর্তে অগ্রগতিকেই বেছে নিয়েছে।
রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে দলের পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার দাবি করেছেন যে, বাংলাভাষী মুসলিমরা ক্রমশ বিজেপির পক্ষে ভোট দিচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, রেজিনগরে আমরা প্রায় ৬০ শতাংশ এবং নন্দীগ্রামে প্রায় ৮০ শতাংশ মুসলিম ভোট পেয়েছি।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি ক্ষমতাসীন দল হিসেবে কেমন ফলাফল করে সেদিকে সকলের আগ্রহ ছিল। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও একাধিক রাজনৈতিক শক্তির উপস্থিতির আবহে বিরোধী শিবিরের ভবিষ্যৎ রূপরেখা কেমন দাঁড়ায়, তার প্রতিও সকলের নজর ছিল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে শেষ মুহূর্তে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় নন্দীগ্রামের নির্বাচনী লড়াইটি বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। কংগ্রেস প্রার্থীকে পুরনো একটি মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে শেষ মুহূর্তে আদালতের নির্দেশে জামিন পেয়ে তিনি প্রচারে যোগ দিয়েছিলেন।
বিজেপি এই আসনে শুভেন্দুর নিহত আপ্তসহায়কের মা হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছিল। অন্যদিকে, কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের অংশটি (যেহেতু তাদের নিজস্ব প্রার্থী শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়িয়েছিলেন)।

উভয় আসনেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম ভোটার রয়েছেন—যারা তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত—তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই উপনির্বাচনকে সংখ্যালঘুদের জন্য একটি 'পরীক্ষা' হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তবে রেজিনগরে মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র আড়াই হাজার ভোট। অন্য দিকে ঋতব্রতপন্থীরা পেয়েছে মমতার দলের অর্ধেক ভোট।
ভারতের তিন রাজ্য, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ ও পুদুচেরির পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্র এবং আসামের একটি লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ভোটে বিজেপি তিনটি আসনে, টিভিকে দুটি আসনে এবং অল ইন্ডিয়া এনআর কংগ্রেস ১টি আসনে জয়ী হয়েছে।

তামিলনাডুতে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের তারকা-ভাবমূর্তির পরীক্ষা ছিল এই উপনির্বাচন। টিভিকে যথারীতি মাদুরান্তকম ও ধারাপুরম—উভয় কেন্দ্রেই এআইএডিএমকে ও ডিএমকে-কে পরাজিত করেছে। নওগাওঁ লোকসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এরই পাশাপাশি পুদুচেরির থাট্টানচাভাদি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির শরিক অল ইন্ডিয়া এনআর কংগ্রেস আসনটি নিজেদের দখলে রেখেছে।