৩৩ ছক্কা ও ৫০১ রানের ম্যাচে হোপের সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভারত–জয়

৩৩ ছক্কা ও ৫০১ রানের ম্যাচে হোপের সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভারত–জয়

ফন্ট সাইজ:

২৫০ রানের লক্ষ্য। জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে ১০ রান দরকার ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ১০ রানের আরেকটি হিসাবও ছিল, সেঞ্চুরি থেকে যে ওই দূরত্বেই ছিলেন শাই হোপ।

অক্ষর প্যাটেলের করা ওভারটার প্রথম বলটাকে ডিপ মিডউইকেট দিয়ে ছক্কা বানালেন হোপ। পরের বলটাকে এক্সট্রা কাভারে ঠেলেও রান নিলেন না ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান অধিনায়ক। তৃতীয় বলটাকে ওয়াইড লং অন দিয়ে ছক্কা মেরেই সেঞ্চুরি আর জয় উদ্‌যাপন করে নিলেন হোপ। ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করে দলকে ৯ বল হাতে রেখেই দলকে ৬ উইকেটের জয় এনে দিলেন অধিনায়ক। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। আর তাতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ সমতা।


শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাঁচিতে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টস হেরে আগে ব্যাটিং করে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান তুলেছিল ভারত। জবাবে ১৮.৩ ওভারেই ৪ উইকেটে ২৫২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা। এই জয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।


বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খায় ক্যারিবীয়রা। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে কামিল পুরানকে ফেরান মায়াঙ্ক যাদব। পরের বলেই তার শিকার হন শিমরন হেটমায়ার। দলের সংগ্রহ তখন মাত্র ৫ রান।


তবে সেই বিপর্যয় বেশিক্ষণ টিকতে দেননি অধিনায়ক হোপ। রোভম্যান পাওয়েলকে নিয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তিনি। ১৩ বলে ২৪ রান করে পাওয়েল ফিরলে ৫৮ রানে ৩ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।


এরপর রাদারফোর্ডকে সঙ্গে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন হোপ। দুজনের ৫৪ বলে ১২০ রানের জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে।


১৫তম ওভারে কুলদীপ যাদবের বলে রাদারফোর্ড ফিরলেও ততক্ষণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ১৭৮ রান। ৩৭ বলে সাতটি চার ও সাতটি ছক্কায় ৮৪ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।


তখনো অবশ্য জয়ের জন্য ৭২ রান প্রয়োজন ছিল ক্যারিবীয়দের। কিন্তু রোমারিও শেফার্ড নেমেই আক্রমণ শুরু করায় সেই লক্ষ্যও কঠিন হয়ে ওঠেনি। মাত্র ১৩ বলে তিনটি করে চার ও ছক্কায় অপরাজিত ৩৪ রান করেন তিনি। হোপের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ২৬ বলে অবিচ্ছিন্ন ৭৪ রানের জুটি গড়ে জয় নিশ্চিত করেন।


অন্য প্রান্তে ৪৫ বলে ছয়টি চার ও নয়টি ছক্কায় ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন হোপ। ভারতের হয়ে মায়াঙ্ক ৩৬ রানে ৩ উইকেট নিলেও বাকি বোলাররা ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের আটকাতে পারেননি। অক্ষর প্যাটেল ৩.৩ ওভারে দিয়েছেন ৬৩ রান।


এর আগে ভারতের বিশাল সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন সঞ্জু স্যামসন। মাত্র ২১ বলে ফিফটি তুলে নেওয়ার পর ৪১ বলে নয়টি চার ও চারটি ছক্কায় করেন ৮২ রান। ঈশান কিষানের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৪৩ বলে ৯৭ রান যোগ করেন তিনি। কিষান করেন ২২ বলে ৪৩ রান।


মাঝের ওভারগুলোতে রোস্টন চেজের ঘূর্ণিতে কিছুটা চাপে পড়েছিল ভারত। ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন এই স্পিনার। তবে শেষ দিকে আবারও রান তোলার গতি বাড়ান অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলক ভার্মা।


দুজনের পঞ্চম উইকেট জুটিতে মাত্র ৩২ বলে আসে ৮৩ রান। আইয়ার ১৮ বলে ৪০ রান করে ফিরলেও তিলক অপরাজিত থাকেন সমানসংখ্যক বলে ৪৪ রান নিয়ে। তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ ২৪৯ রান তোলে ভারত।