তামিমের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ভাঙা হলো না তানজিদের

তামিমের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ভাঙা হলো না তানজিদের

ফন্ট সাইজ:

ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। আফগান বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে মাত্র ৪১ বলে তুলে নিয়েছিলেন ফিফটি। মনে হচ্ছিল, টেস্ট ক্রিকেটে ওয়ানডে মেজাজে ব্যাট চালিয়ে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি নিজের করে নেবেন বাঁহাতি এই ওপেনার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। ৭১ বলে ৮৩ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে ফিরতে হলো সাজঘরে। ফলে অক্ষতই থাকলো ২০১০ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৪ বলে সেঞ্চুরি করা তামিম ইকবালের রেকর্ড। তামিমের ৮৩, সাদমানের ৬৭ ও লিটনের ৫৩ রানে আট উইকেট হারিয়ে দিন শেষে ৩১৭ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

টেস্টে সবশেষ বাংলাদেশ-আফগানিস্তান মুখোমুখি হয় ২০২৩ সালে। মিরপুরে সেই টেস্টে ৫৪৬ রানে জয়ী বাংলাদেশ ৩ বছর পর আবুধাবিতে ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে খেলছে আফগানদের বিপক্ষে। মরুর বুকে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ গতকাল দারুণ শুরু করে। প্রথম দিনে তানজিদের ব্যাটিং ছিল দৃষ্টিনন্দন। চারটি ছক্কা ও আটটি চারে সাজানো তার ইনিংসে বাংলাদেশের রান উঠছিল দ্রুতগতিতে। অন্য প্রান্তে সতর্ক ব্যাটিংয়ে সঙ্গ দিয়েছেন সাদমান ইসলাম। দুজনের উদ্বোধনী জুটিতে ১২৪ রান পায় বাংলাদেশ। প্রথম সেশনে ২৬ ওভারে ১৩৪ রান তুলে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় দল। মাত্র ৪১ বলে ফিফটি তুলে নেয়া তানজিদকে থামান পেসার ইসমত আলম। অফ স্টাম্পের বাইরের দিকে সুইং করা বলে ব্যাট ছোঁয়াতে গিয়ে উইকেটকিপার ইকরাম আলিখিলের গ্লাভসে ক্যাচ দেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ার সুযোগ হাতছাড়া হয় তার। তিন টেস্টের ছয় ইনিংসে এর আগে একটি সেঞ্চুরি করা এই তরুণের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং অবশ্য দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

তানজিদের বিদায়ের পর সাদমানও ফিফটি তুলে নেন। তবে ৬৭ রানের বেশি এগোতে পারেননি তিনি। বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে জিয়া-উর-রহমানের হাতে ক্যাচ দেন এই ওপেনার। ১৮৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপরই শুরু হয় বাংলাদেশের ইনিংসে ধস। ৩৯ রান করা মুমিনুল হক শর্ট কভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইয়ামিনের বলে। পরের ওভারে ইনসুইং ইয়র্কারে বোল্ড হন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীম। রানের খাতাই খুলতে পারেননি তিনি। এরপর ২৯ রান করা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও ফিরে গেলে মাত্র ৪ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। চা-বিরতির আগে ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করেন লিটন কুমার দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

ষষ্ঠ উইকেটে দুজনের ৬২ রানের জুটি আশার আলো দেখালেও ২৪ রান করে ইসমত আলমের বলে বোল্ড হন মিরাজ। দ্রুতগতির বলটি কাট করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান তিনি। ২৮৭ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লিটনও হাফ সেঞ্চুরি তুলে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি, ফিরেছেন ৫৩ রান করে। অথচ আউট হওয়ার আগেই টেস্ট ক্যারিয়ারের ২১তম অর্ধশতকের দেখা পান তিনি। তার ব্যাটে তৃতীয় সেশন পার করে দেয়ার স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। লিটন ৪টি চারে ৮৯ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলে আউট হন মোহাম্মদ সেলিমের বলে। এরপর হাসান মাহমুদের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। হাসান করেন ২ রান। নাঈম হাসান ১১ ও তাইজুল ইসলাম ৪ রান করে দিন শেষ করলে ৩১৭ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের মোহাম্মদ সেলিম তিনটি, ইসমাত আলম ও ইয়ামিন আহমাদজাই দুটি করে উইকেট দখল করেন।