অস্ট্রেলিয়ায় মলিন হারে সিরিজ শুরু জ্যোতিদের

অস্ট্রেলিয়ায় মলিন হারে সিরিজ শুরু জ্যোতিদের

ফন্ট সাইজ:

অস্ট্রেলিয়ার শক্তি সামর্থ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের পার্থক্যটা সবারই জানা। তবে স্বাতিকদের বিপক্ষে টাইগ্রেসরা অনন্ত লড়াই করতে পারবে, এমন প্রত্যাশা ভক্তদের। কিন্তু তেমন কিছু দেখাতে পারলেন না জ্যোতিরা। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়া নারী দলের কাছে পাত্তাই পেল না নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। গতকাল ব্রিসবেনে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের করা ১৬৬ রানের জবাবে ১৪৬ বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। বল হাতে অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড আর ব্যাটিংয়ে দলের জয় সহজ করেন ফিবি লিচফিল্ড। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের জন্য উপলক্ষটা ছিল বড়। যে কোনো সংস্করণে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাঠে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের ম্যাচ খেলতে নেমেছিল তারা। কিন্তু ব্যাটিং-বোলিংয়ে সেই উপলক্ষ রাঙানোর মতো কিছুই করতে পারেনি নিগার সুলতানার দল। ম্যাচে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার শুরু একদম প্রথম বল থেকেই। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মেগান শুটের প্রথম বলে ফেরেন ফারজানা হক। বাড়তি বাউন্স করা ডেলিভারি অভিজ্ঞ ব্যাটারের ব্যাটের কাঁধের অংশ ছুঁয়ে যায় স্লিপে থাকা লিচফিল্ডের হাতে। নিজের পরের ওভারে আরেক ওপেনার শারমিন সুলতানাকে আউট করেন শুট। ১১ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর প্রতিরোধের চেষ্টা করেন শারমিন আক্তার ও নিগার সুলতানা। যেখানে ইতিবাচক ভূমিকায় ছিলেন ছন্দে থাকা শারমিন আক্তার। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। ৫ চারে ২৪ রান

করে সাদারল্যান্ডের বলে অ্যালানা কিংয়ের দারুণ ক্যাচে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন শারমিন আক্তার। দলের পঞ্চাশ হওয়ার আগে ফিরে যান সোবহানা মোস্তারিও (১৭ বলে ২)। চার নম্বরে নামা নিগার একপ্রান্তে আঁকড়ে ধরে রাখেন। মন্থর ব্যাটিংয়ে উইকেট বাঁচিয়ে রেখে এগোনোর পরিকল্পনা সাজান তিনি। তবে এতে সফল হননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। ২৮তম ওভারে দলের ৮৩ রানে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক তাহ্লিয়া ম্যাকগ্রার বলে কট বিহাইন্ড হন নিগার। ২৯ রান করতে তিনি খেলেন ৮৬ বল। দলের একশ পূর্ণ হওয়ার পর আউট হন ৫০ বলে ২১ রান করা স্বর্ণা আক্তার। পরে রাবেয়া খান বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি ক্রিজে। ১২২ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর দায়িত্ব নেন রিতু মনি। অভিজ্ঞ পেস বোলিং অলরাউন্ডার ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে খেলেন ৫ চারে ৬৩ বলে ৪৫ রানের ইনিংস। যার সৌজন্যে দেড়শ পেরিয়ে বলার মতো সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। শেষ দিকে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন সহ-অধিনায়ক নাহিদা আক্তার। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ৯.৪ ওভারে ২ মেডেনসহ ৩০ রানে ৪ উইকেট নেন সাদারল্যান্ড। চমৎকার বোলিংয়ে ১০ ওভারে ৪ মেডেনসহ মাত্র ১৯ রানে ২ উইকেট নেন শুট।

রান তাড়ায় বাংলাদেশকে সম্ভাবনাই জাগাতে দেননি লিচফিল্ড। ষষ্ঠ ওভারে অভিষিক্ত পেসার হাবিবা ইসলাম অবশ্য আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন বাংলাদেশকে। দারুণ বাউন্সারে ফাইন লেগে ক্যাচ দেন জর্জিয়া ভোল।

এরপর সফরকারীদের ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেন লিচফিল্ড। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৮ চার ও ১ ছক্কায় মাত্র ৩৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন বাঁহাতি ওপেনার। সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন ২৩ বছর বয়সী ব্যাটার।
তবে ১৭তম ওভারে রাবেয়ার বলে ক্রিজ ছেড়ে মারতে গিয়ে শর্ট কভারে ক্যাচ দিয়ে বসেন স্টাইলিশ এই ওপেনার। ১০ চার ও ১ ছক্কায় ৫৯ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলেন লিচফিল্ড। তার বিদায়ে ভাঙে এলিসা পেরির সঙ্গে ৮৯ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি।

পরে বেথ মুনিকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় সাফল্য পান হাবিবা। তবে পেরি (২৬) ও সাদারল্যান্ড (২৫) মিলে ৩৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ম্যাচ শেষ করেই মাঠ ছাড়েন। একই মাঠে রোববার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে লড়বে দুই দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৪৯.৪ ওভারে ১৬৬ (ফারজানা ০, শারমিন সুলতানা ৪, শারমিন আক্তার ২৪, নিগার ২৯, সোবহানা ২, স্বর্ণা ২১, রিতু ৪৫, রাবেয়া ১১, নাহিদা ১৯*, হাবিবা ১, মারুফা ০; সাদারল্যান্ড ৯.৪-২-৩০-৪)
অস্ট্রেলিয়া: ২৫.৪ ওভারে ১৬৮/৩ (লিচফিল্ড ৭৭, পেরি ২৬*, মারুফা ৪-০-৩৫-০, হাবিবা ৬-০-৩৬-২, নাহিদা ৪.৪-০-২৯-০, রাবেয়া ৭-০-৩২-১, রিতু ৪-০-৩৬-০)

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ১-০তে এগিয়ে
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড