ভারতে খেলতে রাজি নয় পাকিস্তান। তাদের সরে দাঁড়ানোর সুযোগে এশিয়ান হকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মূল পর্বে জায়গা পেয়েছে বাংলাদেশ। আগামী ২৭শে অক্টোবর থেকে ৫ই নভেম্বর ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধর ও মোহালিতে বসবে ছয় দলের এই টুর্নামেন্ট। শুরুতেই স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রস্তুতি শুরুর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। আগামী ১২ই অক্টোবর থেকে অনুশীলন শুরু করতে চান কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের জন্য বিদেশি কোচ নিয়োগের বিষয়টিও ভাবনায় রয়েছে ফেডারেশনের।
ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স জানান, এশিয়ান গেমস চলাকালে ওয়ার্ল্ড হকি ফেডারেশনের সভাপতি তৈয়ব ইকরাম বাংলাদেশকে পাকিস্তানের পরিবর্তে খেলার আমন্ত্রণ জানান। তবে আর্থিক সংকটের কারণে শুরুতে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। প্রিন্স বলেন, ‘এশিয়ান গেমসের সময় ওয়ার্ল্ড হকি ফেডারেশনের সভাপতি তৈয়ব ইকরাম আমাদের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানের পরিবর্তে খেলার আমন্ত্রণ জানান। আমি তখনই তাকে আমাদের আর্থিক অবস্থার কথা জানাই। বলি, এশিয়ান হকি ফেডারেশন সহায়তা করলে আমরা খেলব। এরপর তৈয়ব ইকরাম হিরো ইন্ডিয়াকে আমাদের সহায়তা করতে অনুরোধ করেন। প্রতিষ্ঠানটি ভারতে আমাদের থাকা-খাওয়া ও স্থানীয় যাতায়াতের খরচ দিতে রাজি হয়েছে। এখন শুধু যাওয়া-আসার বিমান ভাড়া আমাদের দিতে হবে।’
প্রস্তুতি শুরুর বিষয়ে প্রিন্স বলেন, ‘আমরা আগামী ১২ই অক্টোবর থেকে প্রস্তুতি শুরু করতে চাই। আজ প্রথম বিভাগ হকি লীগের উদ্বোধনে ফেডারেশন সভাপতি আসবেন। তার সঙ্গে আলোচনা করেই সবকিছু চূড়ান্ত করবো।’ বিদেশি কোচ নিয়োগের বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টের জন্য অবশ্যই একজন বিদেশি কোচ লাগবে। দীর্ঘদিন বাংলাদেশের কাজ করা জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ডের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, নতুন কোচ এসে খেলোয়াড়দের চিনতে চিনতেই টুর্নামেন্টের সময় চলে আসবে।’ এবারের টুর্নামেন্টে শুরুতে পাকিস্তানের অংশ নেয়ার কথা ছিল। তবে ভারত সফরে খেলতে অনিচ্ছুক পাকিস্তান নিজেদের ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের অনুরোধ জানায়। সেই অনুরোধে সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায় তারা। পাকিস্তানের পরিবর্তে বাংলাদেশকে মূল পর্বে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রিজার্ভ দল হিসেবে আগে থেকেই তালিকায় ছিল বাংলাদেশ ও ওমান। কোনো দল সরে দাঁড়ালে যাতে ছয় দল নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা যায়, সে পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই রাখা হয়েছিল এই দুই দলকে। পাকিস্তানের জায়গায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ক্রীড়া-দ্বন্দ্বকেও সামনে এনেছে।
২০০৮ সালের পর দুই দেশের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় হকি সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হয়েছে তারা। পাকিস্তানের মাটিতে ভারতের সর্বশেষ সিরিজ হয়েছিল ২০০৬ সালে। সূচি অনুযায়ী, ২৭শে অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের অভিযান শুরু হবে। ২৯ অক্টোবর জাপান, ৩০শে অক্টোবর মালয়েশিয়া, ১ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়া এবং ২রা নভেম্বর চীনের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। লীগ পর্বের ম্যাচগুলো হবে জলন্ধরের অলিম্পিয়ান সুরজিৎ সিং হকি স্টেডিয়ামে। এরপর নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে মোহালির অলিম্পিয়ান বলবীর সিং সিনিয়র ইন্টারন্যাশনাল হকি স্টেডিয়ামে।
