যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিপত্রের ব্যাপক প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ফ্রাঙ্ক রিবেরি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয় (ডিওজে) প্রকাশিত ৩০ লাখ পৃষ্ঠার বেশি নথিতে উঠে আসে বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ও অভিজাত ব্যক্তিদের নাম। এবার সে তালিকায় যুক্ত হলেন বায়ার্ন মিউনিখের ফরাসি কিংবদন্তি রিবেরি।
ডিওজের ভাষ্যমতে, ৩০ লাখ পৃষ্ঠার পাশাপাশি এই ফাইলে সংযুক্ত রয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিওসহ তদন্ত প্রতিবেদন, ই-মেইল, আদালতের নথি, যা কয়েক দশক ধরে সংগৃহীত। এ নথিগুলোর বহু জায়গায় কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই শুধু নামের তালিকা রয়েছে। তবে কিছু অংশে যুক্ত আছে নির্দিষ্ট সাক্ষ্য ও অভিযোগের বিবরণ। এমনই কয়েকটি অনুচ্ছেদে রিবেরির নাম উঠে আসায় সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। রিবেরির বিষয়টি প্রথম সামনে আসে রেডিটের জনপ্রিয় ফুটবল ফোরাম আর/সকার-এ, যেখানে ব্যবহারকারীরা সংশ্লিষ্ট নথির অংশ তুলে ধরেন। একটি নথির ২৬ নম্বর পৃষ্ঠায় রিবেরির নাম প্রথমবার দেখা যায়। সেখানে এক দাবিদার অভিযোগ করেন, একটি বাগানে কথিত এক ঘটনার সময় রিবেরি তাকে আঘাতের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। নথির পরবর্তী অংশে উল্লেখ করা হয় সিলভাঁ কোরমিয়ের নামও, যিনি আরেক ফরাসি সাবেক করিম বেনজেমার আইনজীবী হিসেবে পরিচিত। সেখানে অভিযোগ করা হয়, কোরমিয়ের ও রিবেরি একসঙ্গে একটি স্থানে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের খুঁজছিলেন, যা পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে শেষ হয়। অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর, তবে নথির প্রকৃতি ও প্রেক্ষাপট বোঝা খুব জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে দাবি করছেন, এপস্টেইন ফাইলের নথিতে কারও নাম থাকা মানেই তার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত, বিষয়টি এমন নয়। এ নথিতে শত শত পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের নাম রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ নেই। আইন মন্ত্রণালয় নিজেও সতর্ক করেছে যে, অনেক তথ্যই অসম্পূর্ণ, যাচাইহীন বা শুধু দ্বিতীয় পক্ষের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব নথিতে থাকা অনেক দাবি আদালতে কখনোই প্রমাণিত হয়নি। তাই কেবল নামের উপস্থিতিকে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
রিবেরির ক্ষেত্রে, এ নথি প্রকাশ নতুন কোনো আইনি প্রক্রিয়া শুরু করছে না। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১০-এ বেনজেমার সঙ্গে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক যৌনকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি হন তিনি। তবে ২০১৪তে ফরাসি আদালত সে মামলাটি খারিজ করে দেয়। এপস্টেইনকাণ্ডের ভয়াবহতা যেমন আলোচিত হচ্ছে, তেমনি যাচাইহীন অভিযোগ ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে। রিবেরিসহ যাদের নাম এ নথিতে উঠে এসেছে, তাদের বিষয়ে ভবিষ্যতে কী প্রভাব পড়বে, সেটি সময়ই বলে দেবে। ১৯৯৯ তে পেশাদার ফুটবলে হাতেখড়ি হওয়া রিবেরি বেশ কয়েকটি ক্লাব ঘুরে ২০০৭-এ যোগ দেন জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখে। ২০১৯ পর্যন্ত এক যুগে বাভারিয়ানদের হয়ে ৪২৫ ম্যাচে তিনি গোল করেন ১২৪টি, অ্যাসিস্ট ১৮২টি। এরপর ইতালিয়ান দুটি ক্লাবে ঘুরে ২০২২-এর অক্টোবরে বুটজোড়া তুলে রাখেন তিনি।
