‘ঝুঁকি না নিয়ে’ও জোড়া গোল নেইমারের

‘ঝুঁকি না নিয়ে’ও জোড়া গোল নেইমারের

ফন্ট সাইজ:

চোট থেকে ফিরে মাঠে নেমেই নিজের জাত চেনালেন নেইমার জুনিয়র। প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর ঘরের মাঠ ভিলা বেলমিরোতে খেলতে নেমে ৬ মিনিটের ব্যবধানে পেনাল্টি থেকে জোড়া গোল করলেন এ ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা। ফলে সান্তোসও রক্ষা পেলো হারের হাত থেকে। ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়লো ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। গত ২রা সেপ্টেম্বর ডান পায়ের ঊরুর চোটে পড়ে মাঠের বাইরে ছিটকে যান নেইমার। ম্যাচের পরে সেলেসাও মহাতারকা জানান, ডান পা ঝুঁকিমুক্ত রাখতেই বাঁ পায়ের ব্যবধার বেশি করেছেন তিনি। চোট কাটিয়ে বাংলাদেশ সময় গতকাল সকালে ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে নামেন নেইমার। সান্তোসের শুরুর একাদশে সুযোগ না হলেও, প্রথমার্ধে দল ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফিলিপে কৌতিনহোর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। ম্যাচ শেষে নিজের সাবধানী পারফরম্যান্স নিয়ে নেইমার বলেন, ‘চোট থেকে সদ্য ফেরায় ডান পায়ে দূরপাল্লার পাসের ঝুঁকি নিতে চাইনি। তবে দুই দলের জন্যই ম্যাচটি দুর্দান্ত ছিল, ব্রাজিলে বর্তমানে এই দুটো দলই সেরা।’

এর আগে প্রথমার্ধের ৪৩ মিনিটে দানিলো ও যোগ করা চতুর্থ লুকাস পাকেতার গোলে লিড নেয় টেবিল টপার ফ্ল্যামেঙ্গো। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে নেইমার নিজের চেনা রূপেই ধরা দেন। রেফারির সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখেন, এমনকি পাকেতার সঙ্গেও কিছুটা উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়ান। তবে ডান পায়ের পুরনো চোট নিয়ে বেশ সতর্ক ছিলেন নেইমার। ডান পায়ে দূরপাল্লার পাস বা ফ্রি-কিক নেয়ার ঝুঁকি না নিয়ে বাঁ পায়ে ফ্রি-কিক নেন। যদিও পেনাল্টি শট দুটি ডান পায়েই নেন তিনি। ম্যাচের ৮২তম মিনিটে ফ্ল্যামেঙ্গোর মিডফিল্ডার জর্জিনহো বক্সে হ্যান্ডবল করলে ভিএআর দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি, এবং জর্জিনহোকে লাল কার্ড দেখান। ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ২০১৯ সালে ভিএআর চালুর পর এটিই ছিল সবচেয়ে দীর্ঘ ৯ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের ভিএআর পর্যালোচনা। পেনাল্টি থেকে গোল করে প্রথম ব্যবধান কমান নেইমার। একজন খেলোয়াড় বেশি নিয়ে খেলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৮৮তম মিনিটে সান্তোসকে আরও একটি পেনাল্টি এনে দেন ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল বারবোসা। এবারো ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে গোল করে সান্তোসকে সমতায় ফেরান নেইমার। এই নাটকীয় ড্রয়ে দুই দলেরই সামপ্রতিক জয়রথ থামলো, যেখানে সান্তোস টানা ৭ জয়ের পর এবং ফ্ল্যামেঙ্গো টানা ৫ জয়ের পর পয়েন্ট ভাগাভাগি করলো। ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে ২৯ ম্যাচে ৬১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই অবস্থান করছে ফ্ল্যামেঙ্গো। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের আট নম্বরে রয়েছে নেইমারের সান্তোস।