ইরানে ভয়াবহ হামলার ছক যুক্তরাষ্ট্রের, ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষা

নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট

ইরানে ভয়াবহ হামলার ছক যুক্তরাষ্ট্রের, ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষা

ফন্ট সাইজ:

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভাণ্ডার ধ্বংস করতে টানা তিন দিনের ব্যাপক হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে দেশটির জ্বালানি স্থাপনা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ড সেন্টারও। তবে পরিকল্পনাটি এখনো অনুমোদন দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক টাইমস এ খবর জানিয়েছে।
পত্রিকাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে পরিকল্পনাটি পর্যালোচনা করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এর আগে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসও ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা তৈরির খবর প্রকাশ করে।

নিউইয়র্ক টাইমস আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান কিংবা ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের জন্য ট্রাম্পের কাছে এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো পরিকল্পনা পেশ করা হলো। আগের পাঁচটি পরিকল্পনাই প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। তবে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ও মার্কিন মিত্রদের ওপর হামলার জবাবে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত পাল্টা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভাণ্ডার অনেকটাই পুনর্গঠন করেছে। নতুন পরিকল্পনায় এসব অস্ত্রের মজুত ধ্বংসের পাশাপাশি জ্বালানি স্থাপনা ও আইআরজিসির কমান্ড সেন্টারে হামলার কথা রয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতিও বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। ২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো শিগগিরই ওই অঞ্চলে একসঙ্গে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন হতে পারে। ইউএসএস থিওডর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন রণতরি বহরটি যুক্তরাষ্ট্রের উপকূল ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের পথে রওনা হয়েছে। সেখানে আগে থেকেই দুটি মার্কিন রণতরি রয়েছে।

তবে ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে ভিন্ন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না ওয়াশিংটন। তাঁর দাবি, সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে দুই দেশের মধ্যে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হচ্ছে।

ট্রাম্পের এ বক্তব্যের সঙ্গে ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর একটি প্রতিবেদনের মিল নেই। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিতে ইসরাইলকে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। সেই সময়সীমা শেষ হবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের অল্প কিছুদিন আগে।