সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে টানা দু’টি ম্যাচ বয়কট করেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। অবশেষে সৌদি প্রো লীগের ক্লাব আল নাসরের হয়ে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। সূত্রের বরাত দিয়ে ইএসপিএন ব্রাজিল জানিয়েছে, আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারি আল ফাতেহর মাঠে দেখা যেতে পারে রোনালদোকে।
মূলত প্রো লীগের প্রধান চারটি ক্লাব আল-নাসর, আল-হিলাল, আল-ইত্তিহাদ ও আল-আহলি নিয়ন্ত্রণ করে পিআইএফ। আল নাসর অধিনায়কের অভিযোগ, তার দলের চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলোকে বেশি আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে পিআইএফ। এ টানাপড়েন আরও বাড়ে সম্প্রতি আল-হিলাল শক্তি বাড়ানোর পর। আল-ইত্তিহাদ থেকে ফরাসি তারকা করিম বেনজেমাকে দলে টানে তারা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর, এ দলবদল ঠেকাতে চাইছিলেন রোনালদো। এ সবের প্রতিবাদস্বরূপ আল-ইত্তিহাদ ও আল রিয়াদের ম্যাচ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখেন রোনালদো। তবে সিআরসেভেন মাঠে না থাকলেও, গ্যালারিতে আগত দর্শকরা তার নাম সংবলিত কার্ড তুলে ধরে ও বিভিন্ন সেøাগান ধরে জানান দেন যে, তারা তাদের অধিনায়কের পাশে আছেন। সূত্রটি ইএসপিএনকে জানায়, পিআইএফ রোনালদোর প্রধান দাবিগুলো মেনে নেয়ায় তিনি মাঠে ফিরতে রাজি হয়েছেন। তারা আল নাসরের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেছে এবং ক্লাবের শীর্ষ নির্বাহীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়েছে। এ কারণে স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কৌতিনহো এবং সিইও জোসে সেমেদোকে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এর আগে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে পিআইএফ। রোনালদো প্রথম ম্যাচ বয়কট করলে তাকে সতর্ক করে সৌদি প্রো লীগ কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র আল-নাসরের অগ্রগতিতে রোনালদোর অবদান স্বীকার করলেও, তিনি যে লীগ কর্তৃপক্ষের ওপরে নন, সেটি মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আল-নাসরে যোগ দেয়ার পর থেকেই ক্লাবের উন্নয়নে রোনালদো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে কোনো ব্যক্তি যত বড় তারকাই হন, নিজের ক্লাবের বাইরে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।’
তখন গুঞ্জন রটে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পিআইএফর পক্ষ থেকে পরিবর্তনের নিশ্চয়তা না আসলে চলতি মৌসুমের শেষে আল-নাসর ছাড়ার আবেদন করতে পারেন রোনালদো। তবে পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডের দাবিগুলো মেনে নেয়ায় আপাতত সেটি চাপা পড়ে গেল।
