শক্তি-সামর্থ্য, ইতিহাস-পরিসংখ্যান কিংবা সাম্প্রতিক ফর্ম- সব কিছুতে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে বাংলাদেশ। তবে এবারের উপলক্ষটা বিশেষ ও ঐতিহাসিক। নারী ক্রিকেটে যেকোনো সংস্করণে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সব পারিপার্শ্বিকতা ও প্রতিকূলতা ভুলে দলের কাছে ইতিবাচক ক্রিকেট দেখতে চান নতুন প্রধান কোচ ডেভিড হেম্প। আজ ব্রিসবেনে সকাল ৯:৫০-এ তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে মুখোমুখি হবে দুই দল।
এর আগে ২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও, অজিদের বিপক্ষে তাদের দেশে এই প্রথম দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলছে টাইগ্রেসরা। প্রায় অর্ধযুগ পর দলের দায়িত্ব নেয়া কোচ ডেভিড হেম্প বাস্তবতা এড়িয়ে যাচ্ছেন না। অস্ট্রেলিয়ার নিখুঁত আধিপত্য মেনে নিয়ে তিনি নিজ দলের কাছে অসম্ভব কোনো জয়ের প্রত্যাশা করছেন না। তবে মাঠে সঠিক মানসিকতা ও শতভাগ ইতিবাচক লড়াই দেখতে চান তিনি। ম্যাচের আগের দিন বিসিবির পাঠানো ভিডিওবার্তায় ৫৫ বছর বয়সী হেম্প বলেন, ‘দলের কাছে প্রত্যাশা যদি বলতে... এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে বিশ্বের সেরা দলের মুখোমুখি হচ্ছি। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি উভয় সংস্করণেই তারা র্যা ঙ্কিংয়ের শীর্ষে। তাই এই বাধা টপকানোই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’ ইতিমধ্যে মঙ্গলবার কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে নিগাররা। বৃষ্টিবিঘ্নিত সেই ম্যাচে বোলাররা সুবিধা না পেলেও, শারমিন আক্তার ৬৭ বলে ৬৮ ও সোবহানা মোস্তারি ৫৪ বলে ৪৯ রানের ইনিংস খেলে নিজেদের ছন্দের প্রমাণ দিয়েছেন। সিরিজ শেষের পর দেশের মাটিতে ফিরে আফসোস করতে চান না হেম্প।
তিনি বলেন, “আমার প্রত্যাশা, মাঠে আমরা কীভাবে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে পারি। এমনটা চাই না যে, দেশে ফিরে আফসোস করতে হয়, ‘ইশ! যদি এভাবে খেলতাম অথবা ওই অ্যাপ্রোচটা থাকত!’ খেলার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে মাঠে নামার মানসিকতা-সব কিছুতে শতভাগ ইতিবাচক থাকতে হবে।” সংবাদমাধ্যমে দলের প্রস্তুতি ও লক্ষ্যের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক জ্যোতি বলেন, ‘কন্ডিশন আমাদের দেশের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তাই আমরা সে অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছি। আপনারা জানেন, আমরা কিছু অনুশীলন সেশন করেছি এবং এখানে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। ফলে উইকেট সম্পর্কে কিছু ধারণা অর্জন করেছি। আমার মতে এটি সম্পূর্ণ মানসিকতার বিষয় যে আমরা খেলায় কীভাবে এগোবো।’
কোচ হেম্পের দীর্ঘ অস্ট্রেলিয়ান কোচিং অভিজ্ঞতা দলের কাজে লাগছে উল্লেখ করে ২৯ বছর বয়সী জ্যোতি বলেন, ‘আমি মনে করি অস্ট্রেলিয়ায় দীর্ঘকাল কোচিং করানোর কারণে তার প্রচুর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি আমাদের অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশন এবং তাদের কিছু খেলোয়াড় সম্পর্কে ধারণা দিতে পেরেছেন। পিচ কেমন হতে পারে এবং তারা কীভাবে আমাদের আক্রমণ করতে পারে-এসব বিষয়ে তিনি আমাদের ধারণা দিয়েছেন। তাই আমরা নেট সেশনে সেগুলো অনুশীলনের চেষ্টা করছি।’ জ্যোতি আরও বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, আমরা এমন একটি দল যারা ঐক্যবদ্ধভাবে এবং পুরো দল হিসেবে পারফর্ম করলে যেকোনো দলকে চমকে দিতে পারি।’ একই মাঠে পরবর্তী দুই ম্যাচে যথাক্রমে ১১ ও ১৪ই অক্টোবর মুখোমুখি হবে দুদল।
