ইনজুরি থেকে ফিরে বোলিং ও রানিং শুরু করেছেন নাহিদ রানা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মেডিকেল বিভাগ ও টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে মাঠে ফেরানোর কাজ করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য গতকাল দল ঘোষণার কথা ছিল। তবে জানা যায়, পেসার রানার জন্য বিসিবি দল ঘোষণা পিছিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে তাকে নিয়ে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন আছে কি না। আফগানদের সঙ্গে খেলা শেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ আছে টাইগারদের। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তিনটি ফরম্যাটে সিরিজ খেলতে যাবে বাংলাদেশ দল।
আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি সিরিজেই রানাকে প্রয়োজন। তবে দেশের মাটির চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় রানার বোলিং বেশি প্রভাব ফেলবে। তাই তাকে তড়িঘড়ি করে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিলে ঝুঁকি থেকে যাবে। তবে তার ম্যাচ ফিটনেসটাও যে পরখ করতে হবে! জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানান নাহিদ রানাকে নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ নিয়ে হাবিবুল বাশার বলেন, ‘ওর জন্যই তো দল দিতে দেরি হচ্ছে। ও ট্রাই-নেশনে খেলতে পারবে কি না, সেটা নিয়েই আসলে অপেক্ষা করছি। ও আবার নেটে বোলিং করতে গিয়ে নিতম্বে ব্যথা পেয়েছে। সে জন্য ৯ তারিখে ওর যে পরীক্ষাটা হওয়ার কথা ছিল, সেটা পেছাতে পারে। এরপরই সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।’
মেডিকেল বিভাগের পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী জানিয়েছেন রানার পরিকল্পনামাফিক কাজ করছেন তারা। রানার বোলিং ও রানিং পর্যবেক্ষণ নিয়ে দেবাশীষ বলেন, ‘হ্যাঁ, আজকে (গতকাল) বোলিং করেছে ও। অল্পমাত্রায় বোলিং করেছে। তো আমরা ওগুলি আসলে অ্যাসেস করছি আর কী, বোলিংয়ের। আমরা কোনো আলাদা টেস্ট করছি না। আমাদের টেস্ট যেটা আছে ওটাই। সো, ইনটেনসিটিটা আমরা আজকে একটু দেখছিলাম। গতকাল রানিং করেছে, রানিংয়েও ভালোই করেছে, রানিংয়ে কোনো কমপ্লেইন করেনি। আজকে অল্পমাত্রায় একটু বোলিং করেছি আমরা। একটা প্ল্যান করেছি, ওই প্ল্যানে এগোচ্ছি আর কী।’ দলে নাহিদ রানার থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা আমি এখন বলতে পারছি না। কারণ, আমরা একটা রিহ্যাবের মাঝামাঝি পর্যায়ে আছি। আমরা একটু দেখছি ইনটেনসিটি বাড়িয়ে ও কেমন কোপআপ করছে। এটা প্রাথমিক, আজকে প্রথম বোলিং করলো। দেখা যাক না কী হয়।’ জিম্বাবুয়ে সফরের সময় পায়ে চোট পেয়েছিলেন রানা।
চিকিৎসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে সম্প্রতি তিনি দেশে ফেরেন। বিসিবির অধীনে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রান-আপ কমিয়ে বোলিং শুরু করেছেন তিনি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার পর এবার দেশের লীগেও তাকে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত রয়েছে। রানাকে নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে পরিকল্পনায় এগোতে চায় বিসিবি। বোর্ডের লক্ষ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তাকে মাঠে নামানো। একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য তাকে প্রস্তুত করা। চোটের কারণে এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে মাঠে নামা হয়নি এই পেসারের। টিম ম্যানেজমেন্ট দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের তিনটি ফরম্যাটেই তার উপস্থিতি চায়। তাই এই পেসারকে ঘিরে বোর্ডের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত সতর্কতার সঙ্গে নেয়া হচ্ছে বলেই জানানো হয়েছে। পুরোপুরি মাঠে নামার আগে তাকে দিতে হবে পরীক্ষাটাও।
