মাঠের লড়াইয়ে দশকের পর দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলকে মাতিয়ে রেখেছিলেন দু’জন। তাদের মধ্যে একজন ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন। আরেকজন কি বসে থাকতে পারেন? দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের ইতি টেনে আলবিসেলেস্তে জার্সি খুলে রাখার দিনে লিওনেল মেসি শুধু সতীর্থ বা ভক্তদের নয়, বরং তার দীর্ঘদিনের মাঠের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কাছ থেকেও পেলেন সর্বোচ্চ মর্যাদা। সিআরসেভেনের আবেগী ও শ্রদ্ধাসূচক বার্তা প্রমাণ করলো যে, প্রতিযোগিতা যতই তীব্র হোক না কেন, ফুটবল ইতিহাসের সেরা দুই জাদুকরের পারস্পরিক সম্মান তার চেয়েও অনেক উঁচুতে। বিদায়ী ম্যাচে ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের দিন দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে এক গোল করেন মেসি। পাশাপাশি বাকি দুটি গোলেই অ্যাসিস্ট করেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল জাদুকর। ম্যাচের পর মেসি নিজের ইনস্টাগ্রাম একাউন্টে দীর্ঘ এক
বিদায়ী বার্তায় লেখেন, ‘গতকাল আমার শেষ
ম্যাচ ছিল এবং আমি এরই মধ্যে আকাশি-সাদা জার্সি মিস করতে শুরু করেছি। আমি জানি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি। অনেক আনন্দ এবং কিছুটা দুঃখের মিশেলে অবিশ্বাস্য এক অভিযাত্রা। তবে আমি জানি প্রতিটি পদক্ষেপই সার্থক ছিল।’ সেই পোস্টে একদম প্রথম দিকে মন্তব্য করেন রোনালদো।
স্প্যানিশ লা লিগা ও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে এক দশকের বেশি সময় ধরে মেসির সঙ্গে দ্বৈরথে মাতানো সিআরসেভেন লেখেন, ‘লিও, এতগুলো বছর ধরে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করে এমন এক ইতিহাস তৈরি করেছ, যা চিরকাল অমর হয়ে থাকবে। আর্জেন্টিনার হয়ে তুমি যা অর্জন করেছ, তার প্রতি আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রইলো।’ আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে সফল খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চ ছাড়লেন মেসি। দেশটির জার্সিতে রেকর্ড ২০৮ ম্যাচ খেলে ১২৬ গোল ও ৬৬টি
অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি, যা জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে কেবল রোনালদোর ঝুলিতেই মেসির চেয়ে বেশি গোল রয়েছে। মেসির ট্রফি ক্যাবিনেটে রয়েছে ২০০৮ অলিম্পিক সোনা, ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ, ২০২১ ও ২০২৪ সালের টানা দুটি কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালের ফিনালিসিমা শিরোপা। এছাড়া রোনালদোর সঙ্গে যৌথভাবে রেকর্ড ৬টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার কীর্তিও রয়েছে তার। অন্যদিকে, মেসির দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সাবেক সতীর্থ নেইমার লেখেন, ‘ফুটবলপ্রেমীরা এতগুলো বছর ধরে তোমাকে দেখে আনন্দ পেয়েছে। তোমার প্রতিটা শ্রদ্ধার্ঘ্য তোমাকে আনন্দ দিক।’
বার্সেলোনায় মেসির আরেক ব্রাজিলিয়ান সাবেক সতীর্থ রোনালদিনহো লেখেন,
‘শুরু থেকেই তোমার এই গল্পের অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত। তুমি আমাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছো।’ ইন্টার মায়ামির হয়ে ক্লাব ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া মেসি যখন রাজকীয়ভাবে জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন, তখন পর্তুগিজ কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিবাদে জড়ানো রোনালদোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে। তবে ফুটবলের দুই চিরন্তন প্রতিদ্বন্দ্বীর এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা চিরদিন ভক্তদের হৃদয়ে গাঁথা থাকবে।
