টানা তৃতীয় বছরের মতো বিশ্ব ক্রিকেটের দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট পাকিস্তান সুপার লীগ (পিএসএল) ও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের (আইপিএল) সূচিতে সরাসরি সংঘাত ঘটতে যাচ্ছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) নিশ্চিত করেছে যে, পিএসএলের দ্বাদশ আসর অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ১৮ই মার্চ থেকে ২রা মে পর্যন্ত। ফলে টুর্নামেন্টটি আইপিএলের সঙ্গে ফের সরাসরি সংঘর্ষে জড়াবে।
২০১৬ সালে প্রথম মৌসুমের পর থেকে ২০২৪ সংস্করণ পর্যন্ত পিএসএল সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ উইন্ডোতে অনুষ্ঠিত হতো। তবে আইসিসির ব্যস্ত সূচি এবং পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো মেগা আসরের কারণে ২০২৫ সাল থেকে টুর্নামেন্টটি এপ্রিল-মে উইন্ডোতে সরিয়ে নেয় পিসিবি।
তবে এই নতুন সূচি বড় ধরনের বাণিজ্যিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। ২০২৯ সাল পর্যন্ত পিএসএলের সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী এবং নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘রাওয়ালপিন্ডিজ’-এর মালিক প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ালী টেকনোলজিস’ গত মাসে গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় সম্প্রচার রাজস্ব হ্রাসের চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বেশিরভাগ বিজ্ঞাপনদাতা পবিত্র রমজান মাসেই তাদের বিপণন ও টিভি বিজ্ঞাপনের বাজেট শেষ করে ফেলার কারণে পরবর্তী সময়ে সম্প্রচারকদের জন্য তেমন কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। ২০২৭ সালে রমজান মাস ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে মার্চের শুরু পর্যন্ত চলায় পিএসএলের আগামী আসরটি আগের দুই মৌসুমের মতো রমজানের পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এই আপত্তির মুখে প্রথমে পিসিবি জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি উইন্ডোতে টুর্নামেন্টটি আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করে। তবে লজিস্টিক ও আবহাওয়াজনিত কারণে সেই প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়। কারণ হিসেবে বলা হয়, পাঞ্জাব অঞ্চলে যেখানে লাহোর, মুলতান ও রাওয়ালপিন্ডির মতো তিনটি প্রধান ভেন্যু অবস্থিত, সেখানে শীতকালে ‘ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।’ তাছাড়া টুর্নামেন্টের শেষ ও গুরুত্বপূর্ণ অংশটি রমজানের মধ্যে পড়ে যাওয়ার বাণিজ্যিক ঝুঁকিও ছিল।
গভর্নিং কাউন্সিল একমতে পৌঁছাতে না পারায় পিসিবি ইমেইলের মাধ্যমে আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মতামত চায়, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই মার্চ-মে উইন্ডোর পক্ষে ভোট দেয়। এদিকে টুর্নামেন্টের ভেন্যু নির্বাচন নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। পিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কোনো মাঠের নাম জানানো হয়নি। এর আগে ফয়সালাবাদ ও পেশোয়ারকে নতুন ভেন্যু করা হলেও, গত ১১তম আসরে জ্বালানি সংকট ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ম্যাচগুলো শুধু লাহোর ও করাচিতে দর্শকশূন্য মাঠে আয়োজন করতে বাধ্য হয় পিসিবি।
