পদকের স্বপ্ন নিয়ে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় পঞ্চম এশিয়ান প্যারা গেমসে অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ১২ ক্রীড়াবিদকে নিয়ে গড়া বাংলাদেশ দল দীর্ঘ ৭০ দিনের প্রস্তুতি শেষে ছয়টি ডিসিপ্লিনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এর মধ্যে চারটি ডিসিপ্লিনে পদকের সম্ভাবনা দেখছে ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশ (এনপিসিবি)। গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সভাকক্ষে প্যারা ক্রীড়াবিদদের মধ্যে কিটস বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া সচিব মাহবুব উল আলমসহ এনপিসিবির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া ক্রীড়াবিদদের দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও কমিটমেন্ট আরও দৃঢ় হতে হবে। তারা শুধু নিজেদের নয়, পুরো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
প্যারা ক্রীড়াবিদদের সামাজিক নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। প্যারা স্পোর্টসের উন্নয়নে জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বগুড়ায় ‘আরাফাত রহমান প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণের ফিজিবিলিটি স্টাডি চলছে। সরকারি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত
নির্মাণকাজ শুরুর আশা করা হচ্ছে। এনপিসিবি সভাপতি মো. নাসিরুল ইসলাম জানান, ১৫ আগস্ট থেকে প্রায় ৭০ দিন অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, বোচিয়া ও আর্চারিতে প্রস্তুতি নিয়েছেন ক্রীড়াবিদরা। বিভিন্ন ভেন্যুতে জাতীয় মানের কোচদের অধীনে হয়েছে এই প্রশিক্ষণ, যার অর্থায়নে সরকার সহযোগিতা করেছে। এনপিসিবির মহাসচিব ড. মারুফ আহমেদ মৃদুল বলেন, চারটি ডিসিপ্লিনে পদকের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বোচিয়ায় একটি পদকের আশা করছেন তারা। অ্যাথলেটিক্সে শেখ সেলিম রেজার হাইজাম্প, চৈতি রানী এবং আর্চারির ঝুমাকে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছেন তিনি। জাপানের আইচি-নাগোয়ায় ১৮ থেকে ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে পঞ্চম এশিয়ান প্যারা গেমস। প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে এবার বাংলাদেশের ঘরে কাঙ্ক্ষিত পদক আসবে-এমন প্রত্যাশাই কর্মকর্তাদের।
