লিও মেসির অশ্রুসিক্ত বিদায়

বিশ্ব মিডিয়ার একই সুরে আবেগে ভাসছে বুয়েন্স আয়ার্স

ফন্ট সাইজ:

ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। বুয়েন্স আয়ার্সের ঐতিহাসিক মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের সঙ্গে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকা এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই ছিলেন উজ্জ্বল। এক গোল ও দুই অ্যাসিস্টে স্টেডিয়ামের ৮৫ হাজার দর্শককে উল্লাসে মাত করে দেন মেসি। ম্যাচের পর ঐতিহ্যগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বৈরিতা দূরে সরিয়ে রেখে বিশ্ব মিডিয়া এক হয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে এই ফুটবল জাদুকরকে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’ তাদের সম্পাদকীয়তে লিখেছে, ‘একদিন কিংবদন্তিরা বলবে, মেসি চিরকালের মতো আর্জেন্টিনা ছেড়ে চলে গেছেন। তার আলবিসেলেস্তে রক্ত প্রবাহ থেমে গেছে, দুই দশকের বেশি সময় ধরে পরা ১০ নম্বর জার্সিটি আজ অভিভাবকহীন ও শূন্য। ফুটবল আজ বুঝবে যে তার বাঁ পা এখন যেন হীরার বাক্সে বন্দি, আর কোনো বিশ্বকাপ বা কোপা আমেরিকা নেই। সর্বকালের সেরা গল্পটির আজ সমাপ্তি ঘটলো।’

আরেক স্প্যানিশ দৈনিক ‘মার্কা’ এই দিনটিকে অভিহিত করেছে ‘সর্বকালের সেরা বিদায়’ হিসেবে। তারা লিখেছে, ‘পুরো আর্জেন্টিনা আজ কান্নায় ভেঙে পড়েছে, কারণ তারা জানে এই জার্সি গায়ে এই জাদুকরকে আর কখনো মাঠে দেখা যাবে না। এরপর এলো তার সেই আবেগঘন বক্তব্য ও স্টেডিয়ামের ভক্তদের কান্নার রোল।’ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের শীর্ষ গণমাধ্যম ‘গ্লোবো’ মেসির শেষ গোলটির প্রশংসা করে লিখেছে, ‘এই অবিস্মরণীয় মঙ্গলবার একটি চোখ জুড়ানো পেনাল্টি গোল উপহার দিলো। বাস থেকে নামা থেকে শুরু করে জাতীয় সংগীত গাওয়া, প্রতিটি মুহূর্তেই ছিল চোখের জল আর আবেগ। মেসি আর্জেন্টাইন ফুটবলের অন্যতম দুই মহান মুখের একটি এবং সবচেয়ে সফল।’ ফ্রান্সের ‘লেকিপ’ লিখেছে, ‘সব সতীর্থকে ঘিরে ধরে তিনি নেচেছেন এবং পরিবারের দিকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানিয়েছেন। স্টেডিয়ামটি যেমন উৎসবমুখর ছিল, তেমনি ছিল নস্টালজিয়ায় ভরা।

কারণ মেসির সময় শেষ। ২০০টি ম্যাচ খেলার পর এই খুদে জাদুকর আর কখনো আলবিসেলেস্তে জার্সি গায়ে চাপাবেন না।’ জার্মানির ‘কিকার’ পত্রিকা জানিয়েছে, ম্যাচের ফলাফল এদিন গৌণ হয়ে ওঠে। ম্যাচের ১০ মিনিটে খেলা থামিয়ে ফায়ারওয়ার্কস ও দাঁড়িয়ে সম্মান জানানোর মাধ্যমে মেসির ১০ নম্বর জার্সির প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। এদিকে, পর্তুগালের ক্রীড়া দৈনিক ‘আ বোলা’ এই বিদায়কে ‘নিখুঁত বিদায়’ বলে আখ্যা দিয়েছে; যেখানে বুয়েন্স আয়ার্স কনসার্ট, গেম ড্রোন শো, আতশবাজি এবং অঝোর কান্নার মধ্যদিয়ে এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রেখেছে। ২০৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের দীর্ঘ পথচলা শেষে ফুটবল ইতিহাসের এক পরম অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটলো।