পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমকে এই কমিশন বিলুপ্ত করার এবং এটিকে ‘স্কুল সার্ভিস কমিশন’-এর সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি জানিয়েছেন।
বলা হয়েছে, এখন থেকে মাদ্রাসায় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য আনার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ।
সম্প্রতি মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের একাধিক অভিযোগ ওঠার পরই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সরকারের মতে, সমস্ত মাদ্রাসার নিয়োগ প্রক্রিয়া স্কুল সার্ভিস কমিশনের আওতায় নিয়ে এলে পুরো বিষয়টি আরও সুসংহত ও দ্রুততর হবে।
গত মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল এবং আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো-কজ) পাঠিয়েছিল। বন্ধ করার নির্দেশপ্রাপ্ত মাদ্রাসাগুলোর অধিকাংশই মালদা, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায় অবস্থিত।
রাজ্যজুড়ে সরকারি সাহায্য-বিহীন মাদ্রাসাগুলোর ওপর একটি সরেজমিন সমীক্ষা চালানোর পরই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসে সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর রাজ্যের মাদ্রাসাগুলোর ওপর এই সমীক্ষা শুরু করেছিল। সমস্ত জেলার সরকারি ও বেসরকারি মাদ্রাসাগুলোর কাজকর্ম, পরিকাঠামো, অনুমোদনের স্থিতি, পরিচালন ব্যবস্থা এবং শিক্ষার মান খতিয়ে দেখার জন্য এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল।
বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল ‘খারিজি’ মাদ্রাসাগুলোর ওপর। এগুলি হলো স্বাধীনভাবে পরিচালিত এমন ইসলামি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যা সরকারি অর্থায়নের পরিবর্তে জন-অনুদান ও দাতব্য ট্রাস্টের অর্থে চলে।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ২,৩৯৬টি মাদ্রাসা কোনো রকম নিবন্ধন ছাড়াই চলছিল। যেসব মাদ্রাসা প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন মেনে চলছিল এবং যাদের বৈধ অনুমোদন ছিল, কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরমপন্থী শিক্ষার প্রসার রোধ করাÑএই দ্বৈত উদ্দেশ্য নিয়েই রাজ্য সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সরকারের লক্ষ্য হলো, মাদ্রাসা পড়ুয়াদের মূলধারার শিক্ষার সুযোগ করে দেয়া এবং অন্যান্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের মতো তাদের জন্যও সমান সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা।
