ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের হামলা বাড়তে থাকায় সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা জোরদারে অতিরিক্ত সেনা ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তুরস্ক। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশটিতে সেনা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হতে পারে। তুরস্কের কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।
এর আগে গত সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব জানিয়েছে, মক্কা জোটের আওতায় সম্মিলিত প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। এজন্য দ্রুত সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক জনবল ও সক্ষমতা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তুরস্কের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় গত বছর থেকেই সৌদিতে তুরস্কের কারিগরি দল, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম রয়েছে।
জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানান, এবার আরও সরঞ্জাম, কারিগরি কর্মী, জরুরি রেসপন্স টিম এবং তাদের সঙ্গে সীমিতসংখ্যক সেনা পাঠানো হবে। তবে তুরস্কের সংবিধান অনুযায়ী বড় ধরনের সেনা মোতায়েনে পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। চলতি মাসের শেষ দিকে এ অনুমোদন পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
হুতির ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন ঠেকাবে তুরস্ক
পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পার্লামেন্টের অনুমোদনের পর তুরস্ক সৌদিতে অভিজ্ঞ পাইলট ও যুদ্ধবিমান পাঠাতে পারে। ইয়েমেন থেকে হুতিদের ছোড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলাই হবে এর প্রধান লক্ষ্য।
তবে সৌদিতে বড়সংখ্যক সেনা পাঠানো বা ইয়েমেনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন তুরস্কের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের পশ্চিমাংশ, রাজধানী রিয়াদ এবং পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তায় তুর্কি বাহিনী ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সৌদি সূত্রের বরাতে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, তুর্কি বাহিনী সৌদি ও পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে একটি যৌথ সমন্বয় ঘাঁটিতে কাজ করবে। পাশাপাশি তুরস্কের নিজস্ব কমান্ড ইউনিটের জন্য আলাদা ঘাঁটিও থাকবে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্সির পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য মুরাত ইয়েশিলতাশ বলেন, শুরুতে তুরস্কের অংশগ্রহণের মূল ফোকাস হবে আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা, নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ (আইএসআর)।
