১৫তম দিনে ক্যাম্পাস পেরিয়ে শহরে

চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের আন্দোলন

১৫তম দিনে ক্যাম্পাস পেরিয়ে শহরে

ফন্ট সাইজ:

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি ১৫তম দিনে গড়িয়েছে। গত ২২শে সেপ্টেম্বর থেকে চলা এ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। ছয়টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষাও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন তারা। একইসঙ্গে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করা হয়। সকাল ১১টা থেকে কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই দায়িত্ব নেয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তাকে পুনর্বহাল করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন কর্মসূচি চলবে।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। একটি ব্যাখ্যাহীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনাই তাদের মূল দাবি। গত ২১শে সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়। ওই রাতেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরদিন থেকে শুরু হয় সর্বাত্মক শাটডাউন, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও গণঅবস্থান। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, স্মারকলিপি, খোলা চিঠি, মশাল মিছিল, রেড কার্ড প্রদর্শন, গ্রাফিতি, মুখোশ মিছিল ও বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। ২৭শে সেপ্টেম্বর ‘৫৬?’ প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা ও ‘৫৬ কর্নার’ কর্মসূচির মাধ্যমে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের কারণ জানতে চান তারা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, অধ্যাপক সায়েমের দায়িত্বকাল স্বল্প হলেও তিনি শিক্ষা, গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, স্মার্ট ক্লাসরুম, শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষণা ও ইন্টার্নশিপের সংযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। বিদেশি শিক্ষার্থীদের চুয়েটে উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ শুরু করেছিলেন বলে দাবি তাদের। এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। গত শনিবার চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তিন সংগঠনের প্রতিনিধিরা সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানান। বৈঠকে তাদের বক্তব্য শোনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত আসেনি।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সামিউন বসির বলেন, ‘আমরা সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছি এবং অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের এক দফা দাবি মেনে নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। তারা আমাদের কথা শুনেছেন এবং বিষয়টি বিচার-বিশ্লেষণ করে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।’

চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, সিভিল, মেকানিক্যাল ও পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংসহ ছয়টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। আন্দোলনের কারণে নতুন পরীক্ষার সময়সূচিও দেয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের সেশনজট ও শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দ্রুত সংকটের সমাধান চান। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের কারণে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে যেতে পারছেন না। তিনি ভার্চ্যুয়ালি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, চুয়েটে বর্তমানে ৩৬১ জন শিক্ষক ও ৬ হাজার ৩৫৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।