যুবককে পিটিয়ে মারলো পাম্পকর্মীরা বাসে আগুন

ঝিনাইদহে তেল নিতে গিয়ে বিতণ্ডা

যুবককে পিটিয়ে মারলো পাম্পকর্মীরা বাসে আগুন

ফন্ট সাইজ:

ঝিনাইদহে পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে এসে বাক-বিতণ্ডার জেরে পাম্পের কর্মীদের পিটুনিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তেল পাম্পের তিন কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ৩টি বাস আগুনে পুড়ে গেছে। আগুনের সূত্রপাতের কারণ জানা যায়নি। এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম নিরব আহমেদ। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার বাদুরগাছি গ্রামের আলিমুর বিশ্বাসের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, তেল নিতে আসেন যুবক নিরব হোসেন। এসময় পাম্পের কর্মচারীরা তেল দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। যুবক নিরব হোসেন কিছুক্ষণ পরে আবারো তাজ ফিলিং স্টেশনে আসে। এসময় অন্য এক ব্যক্তিকে বোতলে তেল দেয়া দেখে প্রতিবাদ করেন। এসময় পাম্পের কর্মচারীরা লাঠি দিয়ে নিরবকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পাম্পের ৩ কর্মচারীকে আটক করেছে র‍্যাব। এদিকে পাম্পকর্মীদের হামলায় যুবক নিহতের খবরে শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাজ ফিলিং স্টেশনের মালিকানাধীন আরেকটি পাম্পে উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর চালায়। নিহত নিরব আহমেদের খালাতো ভাই সোহেল হোসেন বলেন, আমার ভাই সাধাসিধে মানুষ। মোটরসাইকেলের তেল নিতে গিয়ে পাম্পের কর্মীদের সঙ্গে তার সামান্য কথাকাটাকাটি হয়। কিন্তু পাম্পের কর্মীরা সন্ত্রাসী কায়দায় লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে আমার ভাইকে খুন করেছে। আমি হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
এদিকে ঝিনাইদহে বাসে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী চলা অবরোধে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী সাধারণ। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করেন শ্রমিকরা। গতকাল শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ঝিনাইদহ-ঢাকা, ঝিনাইদহ-খুলনা ও ঝিনাইদহ-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করা হয়।

রোববার সকাল থেকে মহাসড়ক অবরোধ করায় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার সব মহাসড়কে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, যশোর, বরিশাল, ফরিদপুরগামী অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবিএম খালিদ হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহফুজ হোসেন, সদর থানার ওসি সামসুল আরেফিন, আরাপপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাসসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবহন মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে, এমন আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেন শ্রমিকরা। পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি রোকনুজ্জামান রানু বলেন, তেল পাম্পের যুবক নিহতের ঘটনার সঙ্গে পরিবহন শ্রমিক বা মালিকদের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু ওই ঘটনার জেরে দুষ্কৃতকারীরা দাঁড়িয়ে থাকা বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নেয়া হলে পরিবহন মালিক শ্রমিকরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেল্লাল হোসেন বলেন, পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তারা অবরোধ করেছেন। যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।