আদালত প্রাঙ্গণে মায়ের কাছ থেকে মেয়েকে ‘ফিল্মি স্টাইলে’ অপহরণ, এসআরবি’র হাতে গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

নোয়াখালী আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মায়ের কাছ থেকে এক তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নেয়ার ঘটনায় অভিযান চালিয়ে থেকে ওই কিশোরী মেয়ে উদ্ধারসহ আসামি আবদুর রহিম রনি (২৩)কে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১১) সিপিসি-৩ চৌকস টিম। মঙ্গলবার সকালে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেন (এসআরবি-১১) সিপিসি-৩ সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও কোম্পানি কমান্ডার মিথুন কুমার কুণ্ডু।
এর আগে, সোমবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী এবং এসআরবি-৭, সিপিএসসি, চট্টগ্রাম যৌথ আভিযানিক দল চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার পাশে কলোনি এলাকায় ইউসুফ নামে ভাড়াটিয়ার বাসা হতে আসামি আবুল হোসেন রনি (২৩)কে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত রনি নোয়াখালী কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের জগদানন্দ গ্রামের বাছেদের বাড়ির সালাউদ্দিনের ছেলে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে (এসআরবি-১১) সিপিসি-৩ সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও কোম্পানি কমান্ডার মিথুন কুমার কুণ্ড আরও জানান, মামলার ভিকটিম স্থানীয় একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

আসামি আবুল হোসেন রনি অন্য আসামিদের সহায়তায় ভিকটিমকে স্কুলে যাওয়ার পথে তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। মামলার বাদী নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল নোয়াখালীতে একটি মামলা দায়ের করে। ফলে আদালতে ভিকটিম জান্নাতুল মাওয়া মুক্তা (১৩) কে উদ্ধারের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখা, নোয়াখালীকে আদেশ দেন। আসামিরা পর্দার আড়ালে থেকে ভিকটিমকে আদালতে হাজির করেন এবং বিজ্ঞ আদালত তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, চট্টগ্রামে প্রেরণ করে। গত ১৩ই সেপ্টেম্বর আদালত ভিকটিমকে বাদীনির জিম্মায় প্রদান করে। বাদীনি ভিকটিমকে জিম্মায় নিয়ে আদালত হতে সিএনজিতে উঠার সময় আসামি রনিসহ অন্য আসামিরা তাদের ঘিরে ফেলে এবং ভিকটিমকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টাকালে বাদী বাধা দিলে আসামিরা কিল-ঘুষি মেরে রাস্তায় ফেলে দেয়। বাদী ভিকটিমকে হেফাজতে নেয়ার চেষ্টা করলে আসামি বাদীর গলা টিপে ধরে মেরে ফেলার চেষ্টা করে।

একপর্যায়ে আসামিরা সিএনজি ও মোটরসাইকেল করে ভিকটিমকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে সুধারাম থানায় মামলা দায়ের করেন বাদী। মামলাটি রুজু হওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ভিকটিমকে উদ্ধারের লক্ষ্যে এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। পরে এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী এবং এসআরবি-৭, সিপিএসসি, চট্টগ্রাম যৌথ আভিযানিক দল চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার পাশে কলোনি এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।