দাম বাড়ানোর পরেও মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় কাটেনি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের সংকট। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকানে মিলছে না অধিকাংশ কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার। সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় বিক্রিও হচ্ছে অতিরিক্ত দামে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহকারীদের কাছে থেকেই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাদের। অপরদিকে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ থাকলেও এখনো উপজেলা প্রশাসন বা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কোনো অভিযান দেখা যায়নি। সরজমিন উপজেলার লেছড়াগঞ্জ, কাণ্ঠাপাড়া, বলড়া ও ঝিটকা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ খুচরা এলপিজি বিক্রেতা দোকানগুলোতে অধিকাংশ কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ নেই। শুধুমাত্র পেট্রোম্যাক্স গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এলাকা ভেদে ১২ কেজির পেট্রোম্যাক্স এলপিজি সিলিন্ডার খুচরা ২০০০-২১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সরবরাহকারীদের কাছে থেকেই ১২ কেজির সিলিন্ডার ১৯০০ টাকা বা তার বেশি কিনতে হচ্ছে তাদের। এর আগে গত রোববার বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন দাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি কেজিতে দাম বাড়ানো হয় ২১ টাকা। এতে পূর্বের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থেকে ২৫২ টাকা বেড়ে নতুন দাম হয় ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। রোববার সন্ধ্যা থেকেই এই দাম কার্যকর হয়। ঝিটকা বাজারের ব্যবসায়ী অপু সাহা বলেন, শুধু পেট্রোম্যাক্স গ্যাস সিলিন্ডার আছে। অন্য কোনো কোম্পানির গ্যাসের সরবরাহ নেই। ১২ কেজির সিলিন্ডার আমাদের ১৯০০ টাকা করে কিনতে হচ্ছে। ২ হাজার টাকা বিক্রি করছি। লেছড়াগঞ্জ বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, শুধুমাত্র পেট্রোম্যাক্স গ্যাস আছে। অন্য কোনো গ্যাস নেই। দুই হাজার টাকায় বিক্রি করছি। আমাদের কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বেশি দাম নিলেও ডিলাররা ক্যাশ মেমো দেয় না। হরিরামপুরে পেট্রোম্যাক্স এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করে গোপীনাথপুর মধ্যপাড়া এলাকার সরবরাহকারী সাফাত এন্টারপ্রাইজ। ভোক্তা পর্যায়ে সরকার-নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার তুহিন বলেন, আমাদের কিছু খরচ আছে। এসব খরচের কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্বে) আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, খুব দ্রুতই এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
