Warning: unserialize(): Extra data starting at offset 670227 of 670228 bytes in /var/www/vhosts/mzamin.com/httpdocs/app/core/FileCache.php on line 26
রায় কার্যকরের অপেক্ষায় পরিবার - MZamin
রায় কার্যকরের অপেক্ষায় পরিবার

আবরার হত্যার ৭ বছর

রায় কার্যকরের অপেক্ষায় পরিবার

ফন্ট সাইজ:

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার সাত বছর পূর্ণ হলো আজ। বিচারিক আদালতে ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, পরে হাইকোর্টেও সেই সাজা বহাল হয়েছে। কিন্তু চূড়ান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। আপিল বিভাগে আসামিদের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটি। সাত বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা আবরারের পরিবার বলছে, আদালতের একের পর এক রায় এলেও তাদের অপেক্ষার শেষ নেই। বিশেষ করে রায় কার্যকরের অগ্রগতি নিয়ে তারা এখন হতাশ।

আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, তার ভাইয়ের হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারকে নয়, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকেও নাড়া দিয়েছিল। তার দাবি, আবরার হত্যার পর মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনে তার প্রভাব ছিল। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিদায়ের সূত্রপাত হয়েছিল আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। কিন্তু যাদের কারণে আজ পরিবর্তন এসেছে, সেই হত্যার বিচারই এখনো শেষ হয়নি।

ফাইয়াজ বলেন, ২০২৫ সালের মার্চে হাইকোর্টের রায়ের পরও তারা অপেক্ষা করছেন। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করলেও তাদের বলা হয়, মামলা সিরিয়াল অনুযায়ী এগোয়। সিরিয়াল এগিয়ে আনা যায়। কিন্তু তারা সিরিয়াল এগিয়ে আনতেও দ্বিধাবোধ করে। আমরা যেখানে যেখানে যোগাযোগ করার দরকার, করেছি। এখন অপেক্ষা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই, বলেন তিনি। তার প্রশ্ন, রায় কার্যকর করতে বাধা কোথায়, সেটা আমাদের পরিবারের জানা নেই। এখন মনে হচ্ছে অবহেলা ছাড়া আর কিছুই না। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সদস্য সচিব সুলতান মাহমুদ তালহা বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূচনা হয় আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়ে, সেই ফ্যাসিবাদ দূর হয়েছে, নতুন নতুন সরকার সুবিধা নিচ্ছে ফাহাদের হত্যার উপর দাঁড়িয়ে, তাদের উচিত আবরার ফাহাদের হত্যার আসামিদের রায় কার্যকর করা, এই দাবি শুধু আমার নয় দেশের প্রতিটি জনগণের দাবি দ্রুত আবরার ফাহাদের হত্যার আসামিদের রায় কার্যকর করা হোক। আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহর ক্ষোভও একই জায়গায়। তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আবরার হত্যা মামলাটির গুরুত্বও কমে যায়। আবরার ফাহাদের আসামিদের রায় কার্যকর শুধু আমার পরিবারের চাওয়া নয়, এটা সারা বাংলাদেশের মানুষের চাওয়া। তারপরও রায় কার্যকর হচ্ছে না। এতে শুধু আমি নই, দেশের সবাই হতাশ, বলেন তিনি।

তার ভাষায়, আমরা এখনো সুষ্ঠু বিচার পাইনি। সরকারের কাছে আবেদন, বিচারের কাজটি যেন দ্রুত শেষ করা হয়। তিনি আরও বলেন, দেশের সেরা বিদ্যাপীঠে পড়ে সে যে এভাবে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হবে, তা আমরা আশা করিনি। ২০১৯ সালের ৫ই অক্টোবর ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অন্যায্য চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন আবরার। পরদিন রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে তাকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধর করা হয়। ৬ই অক্টোবর দিবাগত রাতে নির্যাতনের একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। পরদিন হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুই বছরের বেশি সময় বিচার শেষে ২০২১ সালের ৮ই ডিসেম্বর ঢাকার আদালত ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এরপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি হয়। ২০২৫ সালের ১৬ই মার্চ হাইকোর্টও ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। কিন্তু এখানেই শেষ হয়নি মামলা। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে কয়েকজন আসামি আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন। ফলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে চূড়ান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।