সাবেক এমপি গোলন্দাজ ও স্ত্রী’র অবৈধ সম্পদের খোঁজ মিলেছে

ফন্ট সাইজ:

ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বৈধ করার উদ্দেশ্যে স্ত্রী শারমিন গোলন্দাজের নামে সম্পদ রেখেছেন ময়মনসিংহ-১০ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল। এমন অভিযোগের তদন্তে প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের তদন্তে শারমিন গোলন্দাজের দখলে থাকা ১ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার ৬০৫ টাকা মূল্যের সম্পদের মধ্যে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৭৬০ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া শারমিন গোলন্দাজের নামীয় ব্যাংক হিসাবে অপরাধলব্ধ ১ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার ২৪০ টাকা লেনদেনের তথ্যও পেয়েছে দুদক। এর মধ্যে ৯৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা এবং ৬১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব ঘটনায় শারমিন গোলন্দাজ ও তার স্বামী ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। গতকাল দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ করবর্ষ থেকে ২০২০-২১ করবর্ষ পর্যন্ত শারমিন গোলন্দাজের মোট গ্রহণযোগ্য আয় ৫৬ লাখ ৭২ হাজার ৮৪৫ টাকা। একই সময়ে তার পারিবারিক ব্যয় পাওয়া যায় ২৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। ব্যয় বাদ দিয়ে তার নিট আয় বা সঞ্চয় দাঁড়ায় ২৮ লাখ ৫২ হাজার ৮৪৫ টাকা। বিপরীতে তার নামে ১ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার ৬০৫ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়।

দুদকের হিসাবে, ওই সম্পদের বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য নিট আয় বা সঞ্চয় বাদ দিলে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৭৬০ টাকা। অন্যদিকে, শারমিন গোলন্দাজ ও ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল পরস্পরের সহযোগিতায় শারমিনের নামীয় ব্যাংক হিসাবে ৯৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা এবং ৬১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪০ টাকা উত্তোলন করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে ওই হিসাবে ১ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার ২৪০ টাকা লেনদেন হয়েছে। দুদকের ভাষ্য, দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত ওই অর্থের প্রকৃতি ও উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে তা স্থানান্তর, রূপান্তর বা হস্তান্তর করা হয়েছে।

দুদক জানায়, ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বৈধ করার অসৎ উদ্দেশ্যে তা স্ত্রী শারমিন গোলন্দাজের নামে প্রদর্শন এবং তার ব্যাংক হিসাবে অপরাধলব্ধ অর্থ লেনদেন করেন। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের তদন্তে এসব অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় শারমিন গোলন্দাজ ও ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় আদালতে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।