পশ্চিমবঙ্গে দু’টি উপ-নির্বাচনেও কেন্দ্রীয় বাহিনী, চলছে রুট মার্চ স্পর্শকাতর এলাকায়

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের উপ-নির্বাচনে মঙ্গলবার ভোট নেয়া হবে। উপ-নির্বাচনেও ভোট পাহারায় থাকছে ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। দুই কেন্দ্রের ৯৮টি স্পর্শকাতর বুথ এলাকায় চলছে রুট মার্চ। নন্দীগ্রামেই স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ভোটের ফল প্রকাশ হবে ৯ই অক্টোবর।

নন্দীগ্রাম আসনটি শুভেন্দু অধিকারী ছেড়ে দেয়ায় এবং রেজিনগর আসনটি আম-জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর ছেড়ে দেয়ায় এই দু’টি আসনে উপ-নির্বাচন হচ্ছে। দুই জনই বিধানসভা নির্বাচনে দু’টি করে আসনে জয়ী হয়েছিলেন।

উপ-নির্বাচন হলেও ভোটের ময়দানে শাসক ও বিরোধী উভয়েই সংখ্যালঘু ভোটের দিকে নজর রেখেছে। প্রচারের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সংখ্যালঘু ভোটের জন্য আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে রোড শো করেছেন শুভেন্দু। তিনি বলেছেন, আগে সংখ্যালঘু এলাকায় তারা ঢুকতেই পারতেন না।

এবার অবশ্য সেই পরিস্থিতি নেই। আগে যারা তাদের ঢুকতে দিতেন না, তারাই সাদরে অভ্যর্থনা করেছেন। শুভেন্দু জানিয়েছেন, বহু মানুষ রাস্তায় বেরিয়েছেন। প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন দীর্ঘক্ষণ। প্ল্যাকার্ডে লেখা, ‘আমরা বন্ধুত্ব করতে চাই’। তবে সংখ্যালঘুরা যেভাবে উৎসাহ দেখাচ্ছেন, তাতে আমাদের মার্জিন অনেকটাই বাড়বে। রোববার নন্দীগ্রাম ছাড়ার আগে শুভেন্দু’র মন্তব্য কটাক্ষ, ‘তৃণমূলের নিশান থাকবে না। আর সেটাই হলো। এখানে মমতার নিশান নেই। রেজিনগরে ওরা নোটার নিচে থাকবে।’
ভোটের মুখে ১৭ বছর আগের খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। জামিন নিতে যেতে হয়েছে হাইকোর্ট পর্যন্ত।

কালীঘাট তৃণমূলের মনোনীত প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল সমর্থন করেছে কংগ্রেস প্রার্থীকে। প্রচারের শেষ দিনে সেই মিলন শুভেন্দুকে নিশানা করে বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী নিজে যদি পুলিশ-প্রশাসনকে নিয়ে দিনের পর দিন মিছিল, সভা করেন, তাহলে বুঝতে হবে কংগ্রেসকে ভয় পেয়েছেন। পুলিশ-প্রশাসনকে দিয়ে বিরোধী নেতাদের হুমকি, ভয় দেখানো তো চলছেই। তারপর ভোটারদেরও ভয় দেখানো হচ্ছে। অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে জয় হবে আমাদেরই।’ বামপ্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি দাবি করেছেন, অবাধ এবং নিরপেক্ষ ভোট করাতে পারলে মানুষের ঢালাও সমর্থন পাবে বামফ্রন্টই।
রেজিনগরেও অভিযোগ করা হয়েছে, আম-জনতা উন্নয়ন পার্টির একের পর এক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আম-জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যানের হুমায়ুন কবীর বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে লড়াইয়ের বদলে প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ভোট লুটের চক্রান্ত চলছে।’

হুমায়ুন কবীর রেজিনগর বিধানসভা এলাকার মোট ২৭৪টি মসজিদে চিঠি দিয়ে লিখেছেন, বর্তমানে তিনি চরম বিপদের মধ্যে রয়েছেন। এই বিপদ থেকে মুক্ত হতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সহযোগিতা এবং দোয়া প্রার্থনা করছেন। এই চিঠি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ‘রাজ্যে নতুন সরকার এসেছে। নিজের সংকল্প পূরণে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে সে। রেজিনগরেও উন্নয়ন হবে। জাতি-ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা উন্নয়নমূলক কাজ করবো।’ রেজিনগরের বিস্তীর্ণ এলাকার পরিকাঠামোগত অনুন্নয়ন, বিপর্যস্ত নিকাশি ব্যবস্থাকে ইস্যু করেছেন বিজেপি প্রার্থী। নিজের জয় নিয়ে ১০০ ভাগ আশাবাদী তিনি।

কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফির সমর্থনে অধীর চৌধুরী দাবি করেছেন, ভোটাররা যদি নির্ভয়ে বুথে গিয়ে ভোটদান করেন, রেজিনগরে কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত। প্রচারে পিছিয়ে ছিলেন না মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীও। বামপ্রার্থী সৈয়দ আসাদ আলি সন্ত্রাসমুক্ত এবং স্বাধীন ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি করে ভোট প্রচার করেছেন। ভোটের ময়দানে সক্রিয় ছিলেন গণতান্ত্রিক তৃণমূলের শফিউজ্জমান হাবিবও।