জাপানি নারীকে হত্যার অভিযোগে মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তার

সানায়ে তাকাইচির ক্ষোভ

জাপানি নারীকে হত্যার অভিযোগে মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

জাপানের ওকিনাওয়ায় এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে ডেভিন ব্যালার্ড (২০) নামের এক মার্কিন মেরিন সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার জেরে ওকিনাওয়া দ্বীপসহ পুরো জাপানে তীব্র গণক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পার্লামেন্টে দেয়া এক ভাষণে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই হত্যাকাণ্ডকে ‘জঘন্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং সেখানে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের মধ্যে কঠোর শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। এ খবর প্রকাশ করেছে গার্ডিয়ান।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ল্যান্স করপোরাল ব্যালার্ড ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহা শহরের একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী আন্না ইয়াগিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার মানিব্যাগ ও ব্যাকপ্যাক ছিনতাই করেন। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে ইয়াগির সঙ্গে হোটেলে প্রবেশ করতে এবং পরবর্তীতে একা বের হয়ে যেতে দেখা যায়। জাপানি ভূখণ্ডে বেসামরিক পোশাকে থাকাকালীন অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী অভিযুক্ত সেনা বর্তমানে জাপানি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এমনকি মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। যদিও ব্যালার্ড তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ওকিনাওয়ার স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে এই হত্যাকাণ্ড। জাপানে অবস্থানরত ৫০ হাজার মার্কিন সেনার অর্ধেকেরও বেশি এবং ৭০ শতাংশ সামরিক ঘাঁটিই এই একটি দ্বীপে অবস্থিত। ১৯৯৫ সালে তিন মার্কিন সেনার হাতে ১২ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর থেকেই স্থানীয়রা মার্কিন ঘাঁটিগুলো বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। সম্প্রতি ২০২৪ সালেও এক কিশোরীকে মার্কিন সেনার ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল। প্রাদেশিক পুলিশের তথ্যমতে, ওকিনাওয়ায় মার্কিন সেনাদের জড়িত থাকা অপরাধের সংখ্যা ২০২০ সালের প্রায় ৪০টি থেকে বেড়ে গত বছর ১০১টিতে দাঁড়িয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডটি এমন এক সময়ে ঘটল, যার কিছুদিন আগেই ওকিনাওয়ার গভর্নর নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির দল সমর্থিত মার্কিন ঘাঁটির পক্ষের নেতা গেন্তা কোজা। স্থানীয়দের আট বছরের ক্ষোভ প্রশমিত করে ফুতেনমা বিমানঘাঁটি স্থানান্তর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার আলোচনা যখন চলছিল, ঠিক তখনই এই ঘটনা ঘটল। নতুন গভর্নর গেন্তা কোজা এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এটি প্রমাণ করে সেনাদের শৃঙ্খলা ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।’ এদিকে মার্কিন মেরিন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন স্থানীয়দের ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা স্বীকার করে জাপানি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।