স্ত্রীকে হত্যা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টিভি প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ‘আমেরিকান আইডল’-এর সাবেক এক প্রতিযোগী ক্যালেব ফ্লিন। এ জন্য আদালত তাকে প্যারোলের কোনো সুযোগ ছাড়াই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছে তারই দুই কন্যা। তারা দু’জনেই ক্যালেবের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে ক্যালেব তার সাবেক প্রেমিকাকে লিখেছেন এক লাখের বেশি টেক্সট বার্তা। আদালতে এর কয়েকটি পড়ে শোনান তার সাবেক ওই প্রেমিকা। গত সপ্তাহে ক্যালেব ফ্লিন’কে (৪০) দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ফ্লিন দাবি করেন, কোনো এক অনুপ্রবেশকারী ওহাইওতে তার বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় তার স্ত্রী অ্যাশলি ফ্লিনকে গুলি করে হত্যা করেছে।
তবে জুরি তার দাবি গ্রহণ করেনি। হত্যা ছাড়াও আরও আটটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে গুরুতর হত্যাকাণ্ড এবং প্রমাণ নষ্ট বা বিকৃত করার অভিযোগ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। সোমবার সাজা ঘোষণার শুনানিতে ফ্লিনের দুই মেয়ের লেখা চিঠি আদালতে পড়ে শোনানো হয়। তারা পিতার কাছে শেষ পর্যন্ত নিজের অপরাধ স্বীকার করার অনুরোধ জানায় এবং কেন তিনি তাদের মাকে হত্যা করেছেন, সেই প্রশ্ন তোলে। সাবেক এই সংগীতজ্ঞ ফেব্রুয়ারিতে তার ৩৭ বছর বয়সী শিক্ষিকা স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর টিপ সিটির তাদের বাড়িটিকে এমনভাবে সাজান, যেন মনে হয় কেউ গ্যারেজ দিয়ে বাড়িতে ঢুকে হামলা চালিয়েছে। ফ্লিনের দাবি, গুলির শব্দ শুনে তার ঘুম ভাঙে। এরপর গ্যারেজের দরজা খোলা দেখতে পান এবং বিছানায় তার স্ত্রীকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনার সময় তাদের ৯ ও ১১ বছর বয়সী দুই সন্তানও বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল। অ্যাশলির বোন কায়লা কেইট আদালতে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি পড়ে শোনান।
এক মেয়ের চিঠিতে লেখা ছিল, ‘প্রিয় বাবা, কোথা থেকে শুরু করব, আমি জানি না। তুমি কীভাবে এমন কাজ করতে পারলে? মা ছিলেন নিখুঁত একজন মানুষ। এরপরও তুমি আমার জীবনে থাকা একমাত্র মাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিলে। অন্য মেয়েটি চিঠির শুরুতে তাকে বাবা হিসেবে সম্বোধন না করে লিখেছে, ‘প্রিয় ক্যালেব’। এরপর বাবাকে অনুরোধ করেছে, ‘তুমি কী করেছ, সবাইকে বলো এবং তোমার পরিণতি মেনে নাও।’ মেয়েটি লিখেছে, ‘আমি যেন বোকা হয়ে গিয়েছিলাম, কারণ আমি ভেবেছিলাম তোমাকে বিশ্বাস করতে পারি।’
সন্তানদের লেখা চিঠিগুলো আদালতে পড়ে শোনানোর সময় ফ্লিন জোরে জোরে কাঁদতে থাকেন। সাজা ঘোষণার শুনানিতে ফ্লিন নিজেও একটি বক্তব্য পড়ে শোনান। এতে তিনি পরিবারের প্রতি ভালোবাসার কথা বলেন এবং নিজের নেয়া কিছু ‘সিদ্ধান্তের’ জন্য ক্ষমা চান। তবে তিনি আবারও দাবি করেন যে তিনি তার স্ত্রীকে হত্যা করেননি। তিনি বলেন, আমাদের বিয়ের দিন আমি অ্যাশলিকে কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমি সেই প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছি। বিচারক জেনিন প্র্যাট সাজা ঘোষণার সময় ফ্লিনকে জনসাধারণের জন্য ‘চরম ঝুঁকি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
হত্যার রায় আসে আট দিন ধরে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের পর। এ সময় ফ্লিন তার সাবেক প্রেমিকা অ্যালেইগা বটনারকে পাঠানো বেশ কিছু টেক্সট বার্তা আদালতে পড়ে শোনানো হয়। প্রসিকিউটররা জানান, ফ্লিন তার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি গানও বানিয়েছিলেন। বিচারে উপস্থাপিত প্রমাণের মধ্যে ছিল পুলিশের বডি ক্যামেরার ফুটেজ এবং হত্যাকাণ্ডের সময়ের আশপাশে ফ্লিনের আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচের কার্যক্রমের তথ্য।
অথচ ওই সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন বলে দাবি করেন। প্রসিকিউশন কয়েক ডজন সাক্ষীকেও আদালতে হাজির করে। তাদের মধ্যে ছিলেন বটনার, যার সঙ্গে ফ্লিনের পরিচয় হয়েছিল তার গির্জায় ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করার সময়। বটনার আদালতে তাদের প্রায় ১ লাখ টেক্সট বার্তার কয়েকটি পড়ে শোনান। এর একটিতে ফ্লিন লিখেছিলেন, ‘গত রাতে ভোর ৪টা পর্যন্ত কাঁদতে কাঁদতে জেগে ছিলাম, আক্ষরিক অর্থেই কীভাবে তাকে হত্যা করা যায় এবং জেলে না যেতে হয়, তা ভাবছিলাম।’
