চীন ছড়াচ্ছে কারখানা, ধরে রাখছে কর্তৃত্ব: বাংলাদেশের প্রস্তুতি কোথায়?
প্রতীকী

চীন ছড়াচ্ছে কারখানা, ধরে রাখছে কর্তৃত্ব: বাংলাদেশের প্রস্তুতি কোথায়?

ফন্ট সাইজ:

কারখানা যে দেশে, শিল্পের নিয়ন্ত্রণও সে দেশের হাতে থাকবে, বিশ্ব অর্থনীতিতে এই ধারণা বদলে যাচ্ছে। এখন ক্ষমতা নির্ধারিত হচ্ছে পণ্যের নকশা, প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ এবং উৎপাদনের সিদ্ধান্ত কার হাতে, তার ভিত্তিতে। চীনের শিল্প রূপান্তর এই পরিবর্তনের বড় উদাহরণ। উৎপাদনের কিছু ধাপ বিদেশে ছড়িয়ে পড়লেও গবেষণা, প্রকৌশল ও সরবরাহব্যবস্থার শক্তি ধরে রাখছে দেশটি। বাংলাদেশের সামনে তাই প্রশ্ন শুধু কতটি কারখানা আসবে, তা নয়; সেই কারখানা আমাদের কতটা দক্ষতা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দেবে।

বস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের সাম্প্রতিক গবেষণায় পরিবর্তনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ চিত্র উঠে এসেছে। ৯৪২টি তালিকাভুক্ত ইলেকট্রনিকস উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মূল ভূখণ্ড চীন, হংকং ও তাইওয়ানকে নিয়ে গবেষণায় ব্যবহৃত ‘গ্রেটার চায়না’ অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিদেশে উৎপাদন উপস্থিতি রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের অনুপাত ২০১৭ সালের ১২ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ৫৬ শতাংশ হয়েছে। তবে এটি ৫৬ শতাংশ উৎপাদন বিদেশে চলে যাওয়ার হিসাব নয়। তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠানের বিদেশে সম্প্রসারণকেও সরাসরি বেইজিংয়ের কৌশল বলা যাবে না। এই পার্থক্য রেখেই বৃহত্তর পরিবর্তনটি বুঝতে হবে।
আগে একই ভূখণ্ডে উৎপাদনের অধিকাংশ ধাপ রাখলে খরচ কমত। এখন শুল্ক, প্রযুক্তিগত বিধিনিষেধ, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কাও বিনিয়োগের হিসাব নির্ধারণ করছে। কোনো প্রতিষ্ঠান অন্য দেশে সংযোজন কারখানা করলেও তার যন্ত্রপাতি, ছাঁচ, উপকরণ ও প্রকৌশল সহায়তা চীন থেকে আসতে পারে। ফলে পণ্যের গায়ে উৎপাদনকারী দেশের নাম বদলালেও মূল প্রযুক্তি ও সিদ্ধান্তের কেন্দ্র অপরিবর্তিত থাকতে পারে। উৎপাদনের বিস্তার এবং শিল্পক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ তাই এক বিষয় নয়।

চীনের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা এখানেই। দেশটির শিল্পসাফল্য কেবল সস্তা শ্রমের ওপর দাঁড়ায়নি। কাছাকাছি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, দক্ষ প্রকৌশলী, দ্রুত পরিবহন, যন্ত্রপাতি মেরামতের সুবিধা এবং চাহিদামতো উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষমতা মিলে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী শিল্পব্যবস্থা। বিনিয়োগকারী শুধু কম খরচ খোঁজেন না; সময়মতো পণ্য সরবরাহের নিশ্চয়তাও চান। বাংলাদেশ কম মজুরির প্রচার করবে, অথচ বিদ্যুৎ, শুল্কায়ন ও পরিবহনের অনিশ্চয়তা কাটাবে না, এমন অবস্থায় প্রতিযোগিতায় এগোনো কঠিন।

এই পরিবর্তন বিশ্ব অর্থনীতিতে সুযোগ ও ব্যয় দুটিই বাড়াচ্ছে। নতুন দেশে কারখানা হলে কর্মসংস্থান ও স্থানীয় ব্যবসার সুযোগ তৈরি হয়। আবার একাধিক দেশে উৎপাদন পরিচালনা, ভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ এবং বাড়তি মজুত রাখার খরচও বাড়ে। বিশ্বায়ন শেষ হচ্ছে না; তার অগ্রাধিকার বদলাচ্ছে। সর্বনিম্ন খরচের পাশাপাশি রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও সরবরাহের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ছোট দেশগুলোর জন্য এখানেই সুযোগ। সবকিছু উৎপাদনের উচ্চাকাঙ্ক্ষার বদলে নির্দিষ্ট কাজে নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠতে পারলে তারাও বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থান নিতে পারে।

ভূরাজনীতির হিসাব আরও জটিল। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কচাপ চীন থেকে সরাসরি আমদানি কমানোর প্রণোদনা দিলেও তৃতীয় দেশের কারখানায় চীনা উপকরণ ও প্রযুক্তির ব্যবহার চলতে পারে। তবে অন্য দেশে কারখানা স্থাপন করলেই সব বাণিজ্যিক বাধা দূর হয় না। পণ্যের উৎপত্তি, স্থানীয় মূল্য সংযোজন ও সরবরাহের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বাংলাদেশের তাই প্রকৃত উৎপাদন বিনিয়োগ এবং নামমাত্র প্রক্রিয়াজাত করে পুনঃরপ্তানির মধ্যে পার্থক্য করতে হবে। সাময়িক শুল্কসুবিধার জন্য দেশের বাণিজ্যিক বিশ্বাসযোগ্যতা ঝুঁকিতে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

চীনকে বিশ্বের একমাত্র ‘শিল্পমস্তিষ্ক’ ভাবাও ভুল। উন্নত সেমিকন্ডাক্টর, উৎপাদনযন্ত্র, সফটওয়্যার, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের শক্তি বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত। চীনের গুরুত্ব বাড়লেও অন্য কেন্দ্রগুলোর প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি। বাংলাদেশের কৌশল হওয়া উচিত এই বহুকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় একাধিক অংশীদার তৈরি করা। কোনো একটি দেশের পুঁজি, প্রযুক্তি বা বাজারের ওপর অতিনির্ভরতা দরকষাকষির ক্ষমতা কমায়। অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের ভিত্তি শুধু রাজনৈতিক ঘোষণা নয়; প্রয়োজনের সময় বিকল্প বেছে নেওয়ার বাস্তব সামর্থ্য।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য সুযোগের ধরনও ভিন্ন। ভারতের বড় বাজার ও প্রযুক্তিগত ভিত্তি বড় পরিসরের উৎপাদন আকর্ষণে সহায়ক। বাংলাদেশের জন্য নির্বাচিত যন্ত্রাংশ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও রপ্তানিমুখী উৎপাদনে বিশেষায়ন বেশি কার্যকর হতে পারে। পাকিস্তানের প্রয়োজন অবকাঠামো ও শিল্পসংযোগ থেকে প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনের সুফল নিশ্চিত করা। শ্রীলঙ্কা বন্দরভিত্তিক সেবা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সুযোগ খুঁজতে পারে। নেপাল ও ভুটানের জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনাকে আঞ্চলিক উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। একই বিনিয়োগের পেছনে সবাই ছুটলে পারস্পরিক পরিপূরক হওয়ার সুযোগ হারাবে।

কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অবিশ্বাস অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বারবার আটকে দেয়। সীমান্তে বিলম্ব, পরিবহনসংযোগের দুর্বলতা ও নীতির অনিশ্চয়তায় কাছের বাজারও ব্যবসায়ীর কাছে দূরের হয়ে যায়। বাংলাদেশের জন্য ভারতের সঙ্গে কার্যকর বাণিজ্য ও যোগাযোগ এবং চীনের সঙ্গে গভীর শিল্পসম্পর্ক পরস্পরবিরোধী হওয়ার কথা নয়। প্রতিটি সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক সুবিধা, স্বচ্ছতা ও জাতীয় স্বার্থ। প্রতিবেশীর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে রাজনৈতিক টানাপড়েনের স্থায়ী জিম্মি বানালে তার মূল্য দেন উদ্যোক্তা, শ্রমিক ও ভোক্তা।

বাংলাদেশের সবচেয়ে জরুরি কাজ রপ্তানির বৈচিত্র্য বাড়ানো। তৈরি পোশাক শিল্প আমাদের সক্ষমতার প্রমাণ, কিন্তু একটি খাতের সাফল্য দিয়ে ভবিষ্যতের সব ঝুঁকি সামলানো যাবে না। চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, হালকা প্রকৌশল ও প্লাস্টিক খাতে সম্ভাবনার পাশাপাশি প্রযুক্তি, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান পূরণের ঘাটতি রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সঙ্গে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহকারী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিদেশি কারখানা যদি স্থানীয় অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে, তাহলে রপ্তানি বাড়লেও শিল্পভিত্তি প্রত্যাশিত শক্তি পাবে না।

এ জন্য সরকারের প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার। সব শিল্পে বিশ্বমানের হওয়ার ঘোষণা না দিয়ে বাজার, দক্ষতা ও ব্যয় যাচাই করে কয়েকটি খাত বেছে নিতে হবে। বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ, গৃহস্থালি সরঞ্জামের উপকরণ, শিল্পের ছাঁচ এবং নির্বাচিত ইলেকট্রনিকস পণ্যে সম্ভাবনা পরীক্ষা করা যেতে পারে। বিনিয়োগকারীর পরিচিতি বা ঘোষিত অর্থের অঙ্ক সাফল্যের যথেষ্ট মাপকাঠি নয়। দেশে কত মূল্য সংযোজন হচ্ছে, কত দক্ষ কর্মী তৈরি হচ্ছে এবং কত দেশীয় প্রতিষ্ঠান সরবরাহের সুযোগ পাচ্ছে, হিসাব চাই সেসবের।

অর্থনৈতিক অঞ্চলের ক্ষেত্রেও ঘোষণার রাজনীতি থেকে বের হতে হবে। জমি বরাদ্দ দিলেই শিল্পাঞ্চল হয় না। নির্ভরযোগ্য জ্বালানি, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ও দ্রুত প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করতে হয়। সরকার অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অঞ্চলগুলোতে সেবা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করে বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রকাশ করতে পারে। অনুমোদন পেতে কত দিন লাগছে, পণ্য খালাস কত দ্রুত হচ্ছে, বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তার জবাবদিহি চাই। বিনিয়োগ সম্মেলনের আশ্বাসের মূল্য নির্ধারিত হয় কারখানার দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায়।

শুল্কনীতির অসংগতিও দূর করতে হবে। দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে তার কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ ব্যয়বহুল করলে রপ্তানির প্রতিযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উৎপাদন উপকরণ আমদানিতে সহজ ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা দরকার, সঙ্গে অপব্যবহার ঠেকানোর কার্যকর নজরদারি। সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা যেন রাজনৈতিক যোগাযোগ দিয়ে নির্ধারিত না হয়। নতুন ও ছোট উদ্যোক্তাও সমান সুযোগ পাবেন, এমন ব্যবস্থা গড়তে হবে। প্রতিষ্ঠিত গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়ে নতুন প্রতিযোগী আটকে রাখলে শিল্পনীতি শেষ পর্যন্ত বিশেষ স্বার্থ রক্ষার নীতিতে পরিণত হয়।

প্রযুক্তি অর্জনকেও চুক্তির আনুষ্ঠানিক বাক্য থেকে বাস্তবে নামাতে হবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠান এলেই জ্ঞান ছড়িয়ে পড়ে না। যৌথ প্রশিক্ষণ, স্থানীয় প্রকৌশলী নিয়োগ, সরবরাহকারীর মানোন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গবেষণার ব্যবস্থা লাগে। প্রণোদনার সঙ্গে পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য ও সময়সীমা থাকতে হবে। প্রশিক্ষণ, উৎপাদন কিংবা স্থানীয় সংযোগের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে সুবিধা পর্যালোচনা করতে হবে। অনির্দিষ্ট করছাড়ের চেয়ে দক্ষ কর্মী, পরীক্ষাগার ও গবেষণায় বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে বেশি ফল দিতে পারে।

শ্রমিকের উন্নতি ছাড়া শিল্পায়নের সাফল্যও অসম্পূর্ণ। কম মজুরি দিয়ে বিনিয়োগ ধরে রাখাকে স্থায়ী কৌশল বানানো যাবে না। নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি ও প্রশিক্ষণকে উৎপাদনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির বিস্তারে অদক্ষ শ্রমের সুবিধা সীমিত হবে। কারিগরি শিক্ষায় তাই যন্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ, শিল্প সফটওয়্যার ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বাড়াতে হবে। নারীদের দক্ষ ও নেতৃত্বমূলক কাজে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কারখানার উন্নতির সঙ্গে শ্রমিকের আয় ও পেশাগত ভবিষ্যতের উন্নতি ঘটাই হওয়া উচিত লক্ষ্য।

কূটনীতির সাফল্য মাপার পদ্ধতিও বদলানো প্রয়োজন। চীনের সঙ্গে আলোচনায় কারখানার পাশাপাশি প্রকৌশল প্রশিক্ষণ ও স্থানীয় সরবরাহকারী উন্নয়ন চাইতে হবে। ভারতের সঙ্গে আঞ্চলিক বাজার ও যোগাযোগ, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে প্রযুক্তি, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাজার প্রবেশ ও বিনিয়োগের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে। দূতাবাসের কাজ প্রতিনিধিদল গ্রহণেই শেষ হতে পারে না। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী চিহ্নিত করা, সমস্যা সমাধানের অগ্রগতি অনুসরণ এবং ফলাফল জানানোও দায়িত্বের অংশ। অংশীদারিত্বের মূল্য বোঝা যাবে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে।

একই সঙ্গে বিনিয়োগের আর্থিক দায় স্পষ্ট রাখতে হবে। বেসরকারি বিনিয়োগ, রাষ্ট্রীয় ঋণ ও সরকারি নিশ্চয়তাযুক্ত প্রকল্প এক নয়। প্রকল্পের আয়, বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন, পরিবেশগত ব্যয় ও রাষ্ট্রের সম্ভাব্য দায় যাচাই জরুরি। কৌশলগত সম্পর্কের নামে অলাভজনক প্রকল্প গ্রহণ ভবিষ্যতের নীতিস্বাধীনতা সংকুচিত করতে পারে। ভালো অংশীদারিত্ব গড়ে ওঠে স্বচ্ছ শর্ত ও পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে।

চীনের শিল্প রূপান্তর সুযোগ তৈরি করছে; বাংলাদেশের প্রস্তুতির দায়িত্ব চীন নেবে না। কারখানা আকর্ষণের পাশাপাশি সেই কারখানা থেকে শেখার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। লক্ষ্য হওয়া উচিত সংযোজন থেকে যন্ত্রাংশ, যন্ত্রাংশ থেকে নকশা এবং নকশা থেকে নিজস্ব উদ্ভাবনের দিকে এগোনো। অন্যের উৎপাদনের ঠিকানা হয়ে কর্মসংস্থান পাওয়া যায়। নিজের শিল্পজ্ঞান গড়ে তুললে অর্জিত হয় অর্থনৈতিক শক্তি। বাংলাদেশের নীতি এখন সেই শক্তি অর্জনের দিকেই যেতে হবে।

লেখক: সহিদুল আলম স্বপন; জেনেভাভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক, প্রাইভেট ব্যাংকিং ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম কমপ্লায়েন্স বিশেষজ্ঞ, কলামিস্ট ও কবি। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বৈশ্বিক আর্থিক স্বচ্ছতা ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখেন।
ই-মেইল: [email protected]