প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনার খবরও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি এই সফর বাস্তবায়নে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। হুমায়ুন কবির বলেছেন, ভারতে বসে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, তা দুই দেশের মধ্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরির পথে বড় বাধা।
গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে বে- অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬ এর সমাপনী দিনে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে ঢাকার তরফে অনুকূল পরিবেশ তৈরির তাগাদা দেয়া হয়েছে। তবে এই পরিবেশ সৃষ্টির ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগকে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন হুমায়ুন কবির। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আশ্রিত শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেভাবে কথা বলছেন এবং অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন, একই ধরনের পরিস্থিতি ভারতের ক্ষেত্রে তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফর করতেন কি না—এমন প্রশ্নও তুলেছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সহায়ক পরিবেশ আলোচনার মাধ্যমেই তৈরি করতে হবে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে কথাবার্তা এবং সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলোর সমাধানে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপের কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ হবে। তবে তার আগে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা করে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিল্লিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।
ভারতীয় গণমাধ্যমে নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দিল্লি থেকে বাংলাদেশের খবর নেয়ার চেয়ে দেশ থেকে খবর নেয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী যখন ভারত সফরে যাবেন, তখন তিনি নিজেই ব্রিফিং করবেন। সাংবাদিকরাই প্রথম সেই খবর পাবেন।
ভারত সফরের বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত আছে কিনা জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের জন্য এবং জাতীয় স্বার্থের জন্য যা ভালো, সেটিই করা হবে।
দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়েই এগোতে হবে। বিশেষ করে দুই দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে একে অন্যের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা তৈরির কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা এবং সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড চালানোকে তিনি দুই দেশের স্বাভাবিক সম্পর্কের পথে বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশে অবস্থান করে কেউ যদি ভারতের সরকারের বিরুদ্ধে একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করে, বাংলাদেশও তা করতে দেবে না। একইভাবে ভারতও তাদের ভূখণ্ডে থাকা এমন ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে রাখবে— এটাই স্বাভাবিক। দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক কর্মসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ৩০ বছরের গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরে শেষ হচ্ছে। এ বিষয়ে ভারতের সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে। দুই দেশের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দুই সরকার এ বিষয়ে আলোচনায় বসবে বলেও জানান তিনি।
