স্পেনে আবাসন সংকট নিরসনে সরকারের আনা প্রস্তাব পার্লামেন্টে বাতিল হয়েছে। এরপরই বড় ধরনের রাজনৈতিক জুয়া খেললেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যানচেজ। নতুন করে গণম্যান্ডেট পেতে আগামী ২৯শে নভেম্বর আগাম সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। মূলত ২০২৭ সালের আগস্টের আগে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও উচ্ছেদ সংকটের প্রেক্ষাপটে শুক্রবার ডানপন্থি আইনপ্রণেতারা সরকারের প্রস্তাব আটকে দেয়ায় এক বছর আগেই ভোটারদের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। এ খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সোমবার সকালে মাদ্রিদে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে স্যানচেজ বলেন, ‘আমাদের জনগণের সমর্থন নতুন করে ঝালিয়ে নেয়া প্রয়োজন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতেই আমরা আবার জনগণের কাছে যাচ্ছি। যাতে সমাজের কায়েমি স্বার্থ ভেঙে সাধারণ মানুষের পক্ষে সংস্কারগুলো অব্যাহত রাখা যায়।’ একই সঙ্গে নিজের কিছু নীতিগত ভুলত্রুটির কথা স্বীকার করে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের ঠিক করতে হবে আপনারা কি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের পক্ষের সরকার চান, নাকি কট্টর ডানপন্থি জোটের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে চান।’
স্পেনসহ বিশ্বমঞ্চে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি, বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক কাঠামো এবং প্রগতিশীল সামাজিক নীতির পক্ষে বলিষ্ঠ কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্যানচেজ ২০১৮ সাল থেকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগেও ২০১৯ ও ২০২৩ সালে আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়ে চমক দেখিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছিলেন তিনি। তবে এবারের লড়াই তাঁর জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি ও জোট সরকারের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের কারণে জনমত জরিপগুলোতে স্যানচেজের সমাজতান্ত্রিক দল পিছিয়ে রয়েছে। ইউরোপজুড়ে কট্টর ডানপন্থিদের নাটকীয় উত্থানের এই সময়ে স্যানচেজের ক্ষমতা হারানোকে মহাদেশটির সর্বশেষ বাম ধারার সরকারগুলোর অন্যতমটির বিদায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক জরিপগুলো আভাস দিচ্ছে, রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (পিপি) কট্টর ডানপন্থি ‘ভক্স’ দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে পারে। আর তা বাস্তবায়িত হলে ১৯৭৫ সালে একনায়ক ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কোর পতনের পর স্পেনে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে এই প্রথম কট্টর ডানপন্থিরা কেন্দ্রীয় সরকারে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জটিল সংকটের মুখে বারবার চমক দেখানো চতুর রাজনীতিক স্যানচেজ এবারও ডানপন্থিদের আবাসন বিল ঠেকিয়ে দেওয়ার ক্ষোভকে পুঁজি করে বাজিমাত করার শেষ সুযোগটি নিতে চাইছেন।
