ফ্রান্সে প্রায় ৫০০টি হাইস্কুল আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নের দাবিতে শিক্ষার্থীদের লাগাতার বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষের জেরে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় সোমবার এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত রাখার কথা জানায় ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ গেফ্রে। আন্দোলন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটির অন্তত ২৪টি স্কুলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী বোঝাই ক্লাসরুম এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের সংস্কারের দাবিতে গত সপ্তাহ থেকে রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভ শুরু করে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা। দ্রুতই এই আন্দোলন মোঁপেলিয়ে, নঁত ও মার্সেইসহ বিভিন্ন বড় শহরে ছড়িয়ে পড়ে। দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, অতি-বামপন্থি কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে ঢুকে পড়ে চরম সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। সংঘর্ষে শিক্ষা বিভাগের অন্তত ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন, যা দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন।
সহিংস বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফরাসি প্রশাসন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ জানান, শুধু শুক্রবারই ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে, যাদের প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। সরকারি পদক্ষেপকে অপর্যাপ্ত আখ্যা দিয়ে আন্দোলনকারীরা মঙ্গলবারও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লিকরনু। তিনি জানান, সুযোগ-সুবিধা সংস্কার, পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করতে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িতদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করতে বিশেষ একটি বিল দ্রুত পাস করার উদ্যোগও নিচ্ছে প্রশাসন।
