ইয়েমেনের হুতি-সৌদি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানপন্থি হুতিদের কাছ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকা পুনর্দখলে ইয়েমেন সরকারকে সহায়তা করতে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে রিয়াদ। গত মাসে আকস্মিক এক অভিযানে ওই এলাকা দখল করে নেয় হুতিরা। সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। শনিবার রিয়াদ ও সানায় হামলা চালানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এদিকে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য দেশগুলো ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। এসব কথা বলা হয়েছে ডনের এক সম্পাদকীয়তে।
ইরানের ক্ষেত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে আরও কয়েক হাজার সেনা এবং একটি বিমানবাহী রণতরী বহর পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার আগে ইরানের চারপাশে মার্কিন সামরিক শক্তি যেভাবে জড়ো করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তার মিল রয়েছে। ইয়েমেন ও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা ক্যাম্প ডেভিডে বৈঠক করেছেন বলেও জানা গেছে।
মনে হচ্ছে, উপসাগরীয় অঞ্চল ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে কূটনীতির জায়গা ক্রমেই আরও বেশি আকারে নিয়ে নিচ্ছে যুদ্ধ। ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। দেশটিতে লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত। জাতিসংঘ বলছে, ২০ লাখের বেশি শিশুসহ ইয়েমেনের লাখ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে। ইয়েমেনের যুদ্ধে যদি আরও আঞ্চলিক দেশ জড়িয়ে পড়ে, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। এ কারণে মুসলিম ও আরব দেশগুলোর উচিত সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালে সহায়তা করা। হুতি আনসারুল্লাহ গোষ্ঠীর উচিত সৌদি আরবের ওপর হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেয়া এবং একই সঙ্গে বাব আল-মান্দেব দিয়ে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা। অন্যদিকে সৌদি আরবের উচিত হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের ওপর অবরোধ তুলে নেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা। একই সঙ্গে ইয়েমেনের সব পক্ষকে অভ্যন্তরীণ সংঘাত শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে উৎসাহিত করা উচিত।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেনে যুদ্ধ চলছে। এর আগে বিভিন্ন দেশের হস্তক্ষেপও এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং অব্যাহত সহিংসতা দেশটির মানবিক পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। ইরানের ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শুধু নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সামরিক অভিযান বা সরাসরি হামলা স্থগিত করেছে এবং নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আবার সংঘাত শুরু করার পরিকল্পনা করছে। এমনটি হলে তা বড় ধরনের ভুল হবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসনে ইরানে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। বিশ্ব- বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আরও অস্থিতিশীলতা ও যুদ্ধের ধাক্কা সামলানোর মতো অবস্থায় নেই। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার বিষয়ে ইরানের দেয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। তার উচিত কৌশল পুনর্বিবেচনা করে তেহরানের সঙ্গে আবার সংলাপ শুরু করা। অন্যদিকে ইরানেরও প্রতিশ্রুতি দেয়া উচিত, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর অবরোধ তুলে নেয় এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে, তাহলে তারা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে।
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশংসা করেছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য জায়গা থেকেও মার্কিন সেনাদের দেশে ফিরিয়ে নেয়া এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে তার একই ধরনের পরিকল্পনা নেয়া উচিত।
