ইয়েমেনে চলছে তীব্র গৃহযুদ্ধ। একদিকে রয়েছে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা অন্যদিকে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকার। হুতিরা অতি দ্রুততার সঙ্গে ইয়েমেনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখল করে নেয়। এতে হরমুজ প্রণালির পর আরেক গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি বাব আল মান্দেবেও নৌ চলাচল ঝুঁকিতে পড়ে। হুতিরা ইয়েমেনের অঞ্চল দখলের পাশাপাশি সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এতে নড়েচড়ে বসেছে সৌদি ও তার সমর্থকগণ। হুতি বিদ্রোহীদের কবল থেকে সমগ্র ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার।
রোববার প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি জানান, দেশের বাকি সব এলাকায় রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ফেরাতে এ অভিযান শুরু হয়েছে। তবে এই ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারি বাহিনীকে বড় ধাক্কা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাইজ শহরকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে হুতিরা। এ খবর প্রকাশ করেছে গার্ডিয়ান। নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তীব্র লড়াইয়ের পর তাইজের আল-সাফিয়া এলাকার প্রধান সড়ক ও পুলিশ ফাঁড়ি দখল করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। এর ফলে সরকারের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনের সঙ্গে তাইজ শহরের জরুরি সরবরাহ সড়ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তাইজ ও লাহজ সীমান্তে সংঘর্ষে ৩৪ সরকারি সেনা এবং ৩৯ হুতি যোদ্ধাসহ অন্তত ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। ইয়েমেনের সরকার দাবি করেছে, তারা ১,১২২ টি হুতি অবস্থানে হামলা চালিয়েছে এবং ১,৭৪৭ জন হুতি বিদ্রোহীকে হত্যা করেছে।
এদিকে ইয়েমেনের মাটিতে লড়াইয়ের পাশাপাশি সৌদি আরবেও হামলা জোরদার করেছে হুতিরা। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, সৌদি আরবের ৫০ দফা বিমান হামলার জবাবে তারা রাজধানী রিয়াদ ও খুরাইসে অবস্থিত তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছেন। সৌদি তেলের পাইপলাইনে এমন হামলার দাবি এবং হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী মোহসেন আজেন্দানি জাতিসংঘকে মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
