রুশ হামলায় ইউক্রেনে ভারতের বিশাল ওষুধ কারখানা ধ্বংস

বহু হতাহত

রুশ হামলায় ইউক্রেনে ভারতের বিশাল ওষুধ কারখানা ধ্বংস

ফন্ট সাইজ:

রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে ভারতীয় মালিকানাধীন একটি বিশাল ওষুধ কারখানা ধ্বংস হয়েছে। সেই সঙ্গে হামলায় একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কুসুম গ্রুপের মালিকানাধীন ওই ওষুধ কারখানাটির মূল স্থাপনার বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। ড্রোন হামলার পর ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে ওই ধোঁয়া দেখা গেছে।

ইতোমধ্যে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এক্সে দেয়া এক পোস্টে নিহত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
জেলেনস্কি বলেন, ‘আজ সকালে রুশরা আবারও ড্রোন দিয়ে কিয়েভের পিভনিচনি সেতুতে হামলা চালিয়েছে। তারা সুমিতে একটি ওষুধের গুদামেও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। দুঃখজনকভাবে এতে একজন নিহত হয়েছেন। তার পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমার সমবেদনা। এছাড়া দিনিপ্রোতে তারা একটি যোগাযোগ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ছয়জন আহত হয়েছে।’

১৯৯৪ সালে ইউক্রেনে ভারতীয় ওষুধ রপ্তানিকারক হিসেবে কুসুম গ্রুপের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে ভারতীয় নাগরিক রাজীব গুপ্ত প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন।
২০০২ সালে অন্য কোম্পানির ওষুধ বিতরণ বন্ধ করে নিজেদের ব্র্যান্ড বাজারজাত শুরু করে কুসুম। এরপর তারা ওষুধ উৎপাদনে যায়। ২০০৭ সালে ভারতে প্রথম কারখানা এবং ২০০৯ সালে ইউক্রেনের সুমিতে কারখানা স্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটি। পরে ভারতে আরও দুটি কারখানা চালু করা হয়।

কুসুম গ্রুপ বর্তমানে ৫০টির বেশি ওষুধ উৎপাদন করে। এগুলোর বেশিরভাগই জেনেরিক ওষুধ। প্রতিষ্ঠানটির পণ্য নয়টিরও বেশি দেশে বিক্রি হয়। এর প্রধান বাজার ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান ও ফিলিপাইন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পুরো সময়জুড়েই সুমির কারখানাটি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তবে এবারের হামলায় প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমপক্ষে ৪০০ কোটি রুপি বলে ধারণা করা হচ্ছে। কুসুম গ্রুপ নিজেদের ‘ভারতীয় শিকড়ের ইউক্রেনীয় কোম্পানি’ হিসেবে পরিচয় দেয়।