সড়কে বিশৃঙ্খলাই যেন নিয়ম

ফন্ট সাইজ:

ঢাকার গণপরিবহনে কোনো অবস্থায় ফেরানো যাচ্ছে না শৃঙ্খলা। গণপরিবহনে নৈরাজ্য, ভাঙাচোরা-জোড়াতালি দেয়া পরিবহন নিয়েই চলছে ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থা। বিভিন্ন সময়ে নেয়া পরিকল্পনা আর প্রকল্পের পরের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মূলত সড়কে চাঁদাবাজি, পরিবহন মালিকদের দৌরাত্ম্য আর সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্তে সমন্বয়হীনতার ফলে নিয়ন্ত্রণে আসছে না ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা। এ ছাড়া একসঙ্গে যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যান চলাচল করায় ঢাকার সড়ক এখন এক ভুতুড়ে অবস্থায় রূপ নিয়েছে। ২০০৪ সালে ঢাকার জন্য করা ২০ বছরের পরিবহন পরিকল্পনায় ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ বা বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি চালুর পরামর্শ দেয়া হয়। পরিকল্পনা গ্রহণের দীর্ঘদিন পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) তৎকালীন মেয়র আনিসুল হক তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন। তবে ২০১৭ সালের ৩০শে নভেম্বর তার মৃত্যুর পর উদ্যোগটি থেমে যায়। দীর্ঘদিনের পুরনো এই প্রকল্প এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তৎকালীন পরিবহন নেতাদের রাজনৈতিক প্রভাবই প্রকল্প বাস্তবায়নে মূল বাধা ছিল। ২০১৬ সালে প্রথম ঢাকার বাসগুলোকে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির আওতায় আনার চিন্তা করা হয়। সে মোতাবেক ২০১৮ সালে কমিটি করা হয়। ২০২১ সালে চালু হয় ঢাকা নগর পরিবহন। এসব কাজ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা। ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ফের বন্ধ হয়ে যায় রুট রেশনালাইজেশনের অগ্রগতি। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই প্রকল্প সফল করতে চায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। তখনো সম্ভব হয়নি বাস্তবায়ন করা।

ঢাকা নগর পরিবহনও ব্যর্থ: বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পের আওতায় গত বছর গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা পর্যন্ত একটি রুটে বাস পরিচালনা করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে বাস চালনা করতেই স্থানীয় কিছু গোষ্ঠী চাঁদা দাবি করে। তারা বিভিন্ন সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংঠনের নাম বলে নানা সময় নানা কায়দায় চাঁদা দাবি করতে থাকে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব কারণে ওই রুটে বাস রুট রেশনালাইজেশনের আওতায় যে পরিকল্পনা করা হয়েছে সেই পরিকল্পনা থেকে তাই সরে আসে সরকার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিটিসিএ’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, গাবতলী থেকে ভুলতার ওই রুটে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যের জন্য বাস চালানো যায়নি। বাস চালানোর জন্য ডিটিসিএ সকল ব্যবস্থা নিয়েছিল। একই পরিস্থিতি গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ রুটে চলমান ঢাকা নগর পরিবহনের ক্ষেত্রেও। সেখানে চাঁদা দিয়ে চাঁদাবাজদের সঙ্গে সমঝোতা করে নগর পরিবহন পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু এইভাবে যদি চলতে থাকে, বাকি রুটগুলোতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। ঢাকা নগর পরিবহনের আওতায় শুরুর দিকে গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া পর্যন্ত বোরাক-আশিয়ান পরিবহনের বাস চালানো শুরু হয়েছিল। কিন্তু ১ মাসে ২১ লাখ টাকা লোকসান দিয়ে একসময় বন্ধ হয়ে যায় রুট। ২০২৫ সালে নতুন করে শুধুমাত্র গুলিস্তান থেকে চাষাড়া পর্যন্ত চলতে থাকে। বোরাক-আশিয়ান পরিবহনের পরিচালক আজিজুল আনসারী মানবজমিনকে বলেন, নিয়মানুযায়ী সিটি করপোরেশনের উচিত ছিল নগর পরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট কাউন্টার করে দেয়ার। কিন্তু আমাদের কোনো কাউন্টার না থাকায় আমাদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে অন্যান্য বাসের মতোই যাত্রী নিতে হতো। কিন্তু রাস্তার ট্রাফিক পুলিশরা আমাদের ব্যাপকভাবে অসহযোগিতা করেন। অন্যান্য গাড়ি যেখানে চার থেকে পাঁচ মিনিট দাঁড়াতে পারতো সেখানে আমাদের গাড়িগুলো এক মিনিট দাঁড়ালেই ট্রাফিক পুলিশরা তড়িঘড়ি করতো আমাদের বাসগুলো সেখান থেকে সরিয়ে দিতে। ফলে আমাদের গাড়িগুলোকে সরে যেতে হতো। আর গাড়ি না দাঁড়াতে পারলে আমরা যাত্রী নিতে পারতাম না।

ফলে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার সুযোগ ছিল না। তাই আমরা এই রুটের গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিতে হয়েছে। নগর পরিবহন সূত্র অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও গুলিস্তান থেকে চাষাড়া রুটে নগর পরিবহন বাসে চলেছে চাঁদা দিয়ে।
গত ৩০শে সেপ্টেম্বর বাস রুট রেশনালাইজেশন নিয়ে অংশীদার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম উপস্থিত ছিলেন। সভায় ঢাকার সড়ক পরিবহনে বিশৃঙ্খলা দূর করা, কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় বলা হয়, ঢাকা শহরে ব্যক্তি বা একক মালিকের অধীনে আলাদাভাবে বাস চালাতে দেয়া হবে না, বরং সরাসরি নির্দিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি ও জবাবদিহিতা থাকবে এবং বাসের ফিটনেস না থাকা কিংবা আইন অমান্যের দায় ওই কোম্পানিকেই নিতে হবে।

বিভিন্ন সময়ে পরিবহন মালিকদের বাগড়া: রাজধানী ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কার বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সরকার পরিবহন মালিকদের ওপর নির্ভরশীল। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠকে তাই পরিবহন নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে অতীতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের চিত্র থেকে দেখা যায়, বিভিন্ন গণপরিবহনের শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে গেলে মালিকদের বিপক্ষে গেলেই বেঁকে যান তারা। গণপরিবহন ব্যবস্থা মোটমুটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনার উপর নির্ভরশীল হওয়াতে পরিবহন মালিকদের কাছে নতি স্বীকার করতে হয় সরকারকে। আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৩ সালের মে মাসেও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন সরানোর বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে নানা সময়ে পুরোনো বাস-ট্রাক উচ্ছেদের উদ্যোগ নিলেও আটকে দেন তৎকালীন পরিবহন নেতারা। পরে ধর্মঘটসহ নানা আন্দোলনের ফলে সড়ক পরিবহন আইনের কার্যকর করা যায়নি সে সময়।

গত বছর প্রজ্ঞাপন দিয়ে ২০ বছরের বেশি পুরনো বাস, মিনিবাস এবং ২৫ বছরের বেশি পুরনো ট্রাককে অর্থাৎ, ইকোনমিক লাইফ অতিক্রম করা যানবাহন সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। পরে ওই বছর ২৭শে জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যিক মোটরযানের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ ও ২৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছর করাসহ আট দফা দাবি জানায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ। একপর্যায়ে পরিবহন মালিকদের সব দাবি মেনে নেয়াসহ সমাধানের প্রক্রিয়া শুরুর আশ্বাস দেয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

বিআরটি প্রকল্পে হাজার-কোটি টাকা গচ্চা: ঢাকার যাতায়াতের সঙ্গে গাজীপুরের সংযোগের জন্য হাতে নেয়া হয়েছিল বিআরটি প্রকল্প। যানজট কমাতে নেয়া উদ্যোগগুলোর মধ্যে ব্যর্থ প্রকল্প এটি। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বিশেষ বাস চলাচলের জন্য নির্মাণ করা বিশেষ এই করিডোর এখন হয়ে সাধারণ যানবাহনের জন্য চার লেনের সড়ক। প্রকল্প হাতে নেয়ার সময় বলা হয় বাস্তবায়ন হলে দিনে প্রায় ২৫ হাজার যাত্রী বিশেষ বাসে যাতায়াত করতে পারবে। যানজট, সড়কপথের সংকেত (সিগন্যাল) কিংবা অন্য কোনো বাধায় বাস আটকে থাকবে না। ১৪ বছরে তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করার পর জানা গেল, এই উদ্দেশ্য পূরণ হওয়ার নয়; বরং যানজট ও জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

গণপরিবহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে আর কী করছে সরকার: বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঢাকার গণপরিবহনের জন্য সবচেয়ে বড় যে উদ্যোগটি নিয়েছে তা ঢাকার বড় বাস টার্মিনালগুলোকে শহরের বাইরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত। মহাখালী বাস টার্মিনাল, গুলিস্তান ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে অন্যত্র সরানো হচ্ছে। গত জুনে টার্মিনালগুলো সরাতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মহাখালী বাস টার্মিনালকে পূর্বাচল, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে কাঁচপুর এবং গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়ার বাস টার্মিনালকে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের কথা বলা হয়। ইতিমধ্যেই মহাখালী বাস টার্মিনালের ডিপোকে পূর্বাচলে স্থানান্তর করা হচ্ছে। মহাখালী বাস টার্মিনালে অলস থাকা অধিকাংশ বাস ইতিমধ্যে পূর্বাচলে স্থানান্তর করা হয়েছে। গতকাল মহাখালী বাস টার্মিনালের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে রাজধানীর গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়ার বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ায় স্থানান্তর করা হবে। চুনকুটিয়ার ঝিলমিল প্রজেক্টে ১০ একর জায়গায় ডিপো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, কাজ শেষ হলেই ফুলবাড়িয়া এবং গুলিস্তানের বাসগুলো সেখানে স্থানান্তর করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিটি সরকারই পরিবহন মালিকদের কাছে এক প্রকার জিম্মি। কখনো পরিবহন মালিকদের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোর থেকে আসা, কিংবা সরকারি পরিবহনের অপ্রতুলতার কারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পরিবহন মালিকদের কাছে নতি স্বীকার করতে হয় বলে জানিয়েছেন তারা।

গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলার পেছনে পরিবহনের মালিক-নেতাদের দুষছেন আন্তর্জাতি দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচলালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি মানবজমিনকে বলেন, পরিবহন খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা মূলত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও পৃষ্ঠপোষকতায় অত্যন্ত ক্ষমতাবান। সরকার পরিবর্তনে বড়জোর হাতবদল হয়। আমাদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় আমরা আরও দেখেছি, তারা শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত তা নয়, তাদের অনেকেই কোনো না কোনোভাবে বিরোধী দলের সঙ্গেও যুক্ত। তার সঙ্গে আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের যোগসাজশ ও অংশীদারিত্ব। পরিবহন নেতাদের ক্ষমতার এই প্রকট দৌরাত্ম্যের সঙ্গে যুক্ত হয় কারণে অকারণে পরিবহন ধর্মঘট। জনগণ ও রাষ্ট্রকে জিম্মি করে তাদের অনৈতিক ও অযৌক্তিক দাবির পাশাপাশি নিজেদের বিচারহীনতা আদায় করে নেয়।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদূর রহমান মানবজমিনকে বলেন, ঢাকায় মেট্রোরেল হোক বা সাবওয়ে হোক, এগুলো খুব ব্যয়বহুল। এগুলোর জন্য সরকার দুই লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ করছে বা তার বেশি। অথচ মাত্র ৫ হাজার কোটি টাকা হলে পরে, একদম মাত্র ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়ে নতুন, আধুনিক ৪ হাজার বাস কিনে রুট ফ্র্যাঞ্চাইজ পদ্ধতিতে কোম্পানিভিত্তিক পরিচালনা করলে পরে রাজধানীর যানজট ৬০% কমে যাবে। তিনি বলেন, সড়কে আধুনিক বাস থাকবে নতুন, তখন ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকেরা তাদের গাড়ি ব্যবহার না করে এই বাস ব্যবহার— বাসে চলাচল করবে। এবং এর মধ্যদিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি যখন সড়কে কমে যাবে, তখন যানজট কমে যাবে, মানুষ মোটরসাইকেলেও না চড়বে না ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন হিসেবে, বাসে যাতায়াত করবে। যার ফলে মোটরসাইকেলও কমে যাবে। মানুষের কর্মক্ষেত্রে আরও স্বাচ্ছন্দ্যভাবে যাতায়াত করতে পারবে, কর্মঘণ্টা নষ্ট কম হবে। অথচ এই রকমের একটা সম্ভাবনাময় প্রকল্প সরকার নেয় না, কারণ এখানে দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ থাকবে না।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান মনে করেন ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা না আসার কারণ সরকারের ভুল পরিকল্পনা। তিনি মানবজমিনকে বলেন, ঢাকার মতো মেগাসিটিতে গণপরিবহনের সংকট সমাধানে ২০০৫ সালের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় সহজ ও কম খরচের কিছু উদ্যোগের কথা বলা হয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল সব বাস মালিককে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় এনে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজিং, মানসম্মত বাস সার্ভিস চালু এবং প্রয়োজনীয় জায়গায় বিআরটি লেন চালু করা। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে সরকার বাস সার্ভিসের মান উন্নয়ন, কার্যকর বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজিং এবং বিআরটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফ্র্যাঞ্চাইজিংয়ের নামে বছরের পর বছর উদ্যোগ নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সরকার ও বাস মালিকদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ মেট্রোরেলের মতো বড় ও জটিল প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।