সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় মাজার ও মসজিদ নিয়ে পুরনো দ্বন্দ্বের কারণেই খুন হয়েছেন শাহ রাসেল। গত শুক্রবার তাকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে দক্ষিণ সুরমার সিলাম এলাকায়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের চকের বাজার এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত রাসেল আহমদ শাহ ওই এলাকার শারুক মিয়ার ছেলে। রাসেলকে ছুরিকাঘাতের পর দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সিলামের হযরত শাহ তৈয়ব ছৈলানি (রহ.) মাজার ও মসজিদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চকেরবাজার এলাকার শাহ ও শেখ গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। গত ২২শে আগস্ট এই দুই গোষ্ঠী মাজার ও মসজিদ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল।
সে সময় পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছিলেন। মাজার ও মসজিদ নিয়ে পুরো বিরোধ ও আগস্টের সংঘর্ষের জেরে কয়েকদিন আগে শাহ গোষ্ঠীর রাসেল আহমদ শেখ গোষ্ঠীর এক যুবকের ছবি দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। এর জের ধরে শুক্রবার বিকালে চকেরবাজার এলাকায় রাসেলকে পেয়ে শেখ গোষ্ঠীর লোকজন ছুরিকাঘাত করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর জের ধরে চকেরবাজারে শাহ ও শেখ গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।
খবর পেয়ে দক্ষিণ সুরমা ও মোগলাবাজার থানাপুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মোগলাবাজার থানার ওসি মোহাম্মদ এরশাদুল হক ভূঁইয়া জানিয়েছেন, হযরত শাহ তৈয়ব ছৈলানি (রহ.) ওয়াক্ফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে সিলামের শেখপাড়া গ্রামের দু’টি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ওয়াক্ফ এস্টেট পরিচালনার জন্য গত ২৯শে জুলাই ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়াক্ফ প্রশাসন থেকে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি এবং দক্ষিণ সুরমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহ-সভাপতি করে ৯ সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। কমিটিতে মোতাওয়াল্লি হিসেবে দায়িত্ব পান ফজলু মিয়া।
এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে রিবোধ সৃষ্টি হয়। পরে কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শাহ আব্দুল মান্নান হাইকোর্টে রিট করেন। ১৬ই আগস্ট শুনানি শেষে হাইকোর্ট নতুন অনুমোদিত কমিটি বহাল রাখেন। তবে সাময়িকভাবে মোতাওয়াল্লি ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে আবেদ রাজাকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা চলছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
