ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকি নিয়েই চলছে সৈয়দপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম। ঝুঁকি নিয়ে চলছে অফিসের কার্যক্রম। এতে করে সেবা নিতে আসা লোকজন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সারাক্ষণ থাকেন আতঙ্কে। দীর্ঘদিনেও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসটি মেরামত না করায় ঝুঁকির আশঙ্কাও আরও বেড়েছে। জানা যায়, ১৯৮২ সালে নির্মিত হয় এই ভবনটি। তখন থেকে ২০২৬ সালের এ পর্যন্ত কোনো প্রকার সংস্কার না হওয়ায় ভবনের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এতে একাধিকবার একাধিক জন আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। নিরাপত্তার কারণে নির্ধারিত এজলাস ছেড়ে পাশের কক্ষে বসে কাজ করছেন খণ্ডকালীন সাব-রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মাসুম। সহকারী রেজিস্ট্রার আব্দুর রউফ বলেন, এখানে ফাইল রাখার কোনো জায়গা নেই। মূল্যবান দলিলপত্র ভিজে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
এরপরও কোটি কোটি টাকার ফাইলপত্র পলিথিন মুড়িয়ে রাখা হচ্ছে। তিনি জানান, মাত্র চারটি কক্ষে অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই ভবনে সহকারী সেটেলমেন্ট, পরিসংখ্যান ও সমবায় কার্যালয়ও রয়েছে। নকলনবিশসহ প্রায় ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে কাজ করেন। নকলনবিশ আব্দুল আউয়াল বলেন, আমরা বারান্দায় বসে কাজ করছি। মাথার উপর থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। এরপরও ভবনটি মেরামত করা হচ্ছে না। অফিসে টয়লেট বা ওয়াশরুমের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাইরে যেতে হয়। এতে দাপ্তরিক কাজে ব্যাঘাত ঘটে বলে জানান তিনি। অফিস সূত্র জানায়, সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলে। ওই দুইদিন জমি ও দলিল-সংক্রান্ত কাজে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে।
কোনো কোনো দিন প্রায় হাজার খানিক মানুষ আসেন এই অফিসে। অন্য দিনগুলোতেও সেবা নিতে লোকজনের উপস্থিতি থাকে অনেক। এই অফিস থেকে সরকার প্রতি মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা রাজস্ব পায়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সংস্কার হয়নি ভবনটির। নতুন ভবনের প্রয়োজন থাকলেও নিজস্ব জমি না থাকায় বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না বলে সূত্রটি জানায়। সাব-রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। তাই আতঙ্কের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছি। ভবনটির কারিগরি নিরাপত্তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংস্কার অথবা নতুন ভবনের ব্যবস্থা করা না হলে যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান তিনি।
